বুকে ক্ষত নিয়ে সাঁইথিয়া রেল দুর্ঘটনার ৯ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদন : ঘুমের মাঝে আকস্মিক দুর্ঘটনায় চলে গিয়েছিল কারোর মা বাবা, কারো সন্তান, কারোর বা প্রিয় আপনজন, আবার কেউ সেদিন রাতে হয়েছিলেন সর্বস্বান্ত। ১৯ শে জুলাই, সাঁইথিয়ার রেল দুর্ঘটনা এখনো সবার বুকে ক্ষতের দাগ হয়ে রয়ে আছে, আজ থেকে নয় বছর আগে সাঁইথিয়ার ৪ নং প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা বনাঞ্চল এক্সপ্রেসকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, রাত তখন ১.৫৫। এতটাই স্বজোড়ের সেই দুর্ঘটনা, যার আওয়াজে আশেপাশের বাড়ির মানুষ ঘুম থেকে উঠে পড়েন। দুর্ঘটনা এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে ট্রেনের বগি রেলব্রীজের উপরে উঠে যায়। স্থানীয় মানুষ জনের প্রচেষ্টায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়, পরবর্তীকালে রেলের উদ্ধারকারী দলেরা আসে, মানুষের মৃত্যুর মিছিলে সংখ্যা দাঁড়ায় শয়ের কাছাকাছি, আহতদের সংখ্যা দুইশোর ধারে পাশে।

Source

তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী ঘটনাস্থলে আসেন। শুরু হয় তদন্ত। তবে রিল এর তরফ থেকে এই দুর্ঘটনার ৬৬ জনের মৃত্যু এবং ১৬৫ জনের আহতের কথা ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার পর সকাল থেকে জেলা জুড়ে অঘোষিত বন্ধের চেহারা নেয়। একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ছুটে আসতে থাকে, সাঁইথিয়া থেকে সিউড়ি সিউড়ি থেকে অন্যান্য জায়গায়। সিউড়ি সদর হাসপাতালে তখন যেন মৃত্যু মিছিল বইছে। তবে সেদিন সারা দেশ দেখেছিল বীরভূম বাসীদের বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাত। প্রশাসনকে একা ফেলে দিয়ে নয়, সমগ্র জেলা বাসি কোন না কোনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অসহায় দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পাশে। তবে এখনো সেই স্বজনহারা মানুষগুলো সাঁইথিয়া স্টেশন চত্বরে যেন খুঁজে বেড়ায় তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের।

Source

সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকে এই দিনটি সাঁইথিয়ার মানুষ কালা দিবস হিসেবেই পালন করে থাকে। সাঁইথিয়া পথ প্রদর্শক নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে এই দিনটি পালন করা হয় প্রতি বছর, শোক জ্ঞাপন করা হয় স্বজন হারানোদের প্রতি। এই বছরও তারা দুর্ঘটনার মূলস্থল রেলব্রীজের উপরে মোমবাতি হাতে নিহত মানুষগুলির আত্মার শান্তি কামনার জন্য নীরবতা পালন করবে ভুলেই সংগঠনের তরফ থেকে জানা যায়।