৫ না ৬! কত রান হওয়া উচিত ছিল? নিয়ম কী বলছে?

ক্রিকেট বিশ্বের সুদীর্ঘ ইতিহাস যা দেখেনি, তারই সাক্ষী রইল লর্ডস। বিশ্বকাপের ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষে হয়ে গেল টাই। এমনকি সুপার ওভারও টাই। টি২০ তে তো ছিলই, এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চেও ঢুকে পড়ল সুপার ওভার। সুপার ওভারও হল টাই। শেষমেশ বেশি বাউন্ডারি মারার সুবাদে বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলে নিল ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েও রেখে দিয়ে গেল অনেক প্রশ্ন চিহ্ন। নিষ্ঠুর নিয়মের বলি হল কিউয়িরা। আইসিসি-র অদ্ভূত নিয়মে বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি মারার নিরিখে চ্যাম্পিয়ন বিচার করে অবিচার হল নিউজিল্যান্ডের প্রতি! এমনটাই বলছে ক্রিকেট বিশ্ব।

শেষ ওভারে বল করতে আসেন ট্রেন্ট বোল্ট। প্রথম দুই বলে রান দেননি। কিন্তু তৃতীয় বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন বেন স্টোকস। বোল্টের চতুর্থ বল মেরে স্টোকস দু’রানের জন্য ছোটেন। গাপ্তিল বল ছোড়েন উইকেট লক্ষ্য করে। কিন্তু বল বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে।

চিন্তায় পড়ে যান আম্পায়াররা। কত রান হবে? পাঁচ নাকি ছয়? কিছু সময় পর ছয়ের সিদ্ধান্ত জানান কুমার ধর্মসেনা। প্রশ্ন উঠছে আইসিসি-র এই নিয়ম নিয়ে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আইসিসি-র রুল বুক অনুযায়ী ওই মুহূর্তে ছয় নয়, পাঁচ রান প্রাপ্য ইংল্যান্ডের। আর তেমনটা হলে নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়।

দেখুন সেই ভিডিও…

কী বলছে ICC-এর নিয়ম?

আইসিসি-র ১৯.৮ আইনে বলা হয়েছে, ব্যাটসম্যান বল হিট করে ২ রান নিতে যাওয়ার সময় ওভার থ্রো হলে, সেক্ষেত্রে ফিল্ডারের থ্রো করার মুহূর্তও বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ ফিল্ডারের হাত থেকে বল বেরোনোর সময় দুই ব্যাটসম্যান একে অপরের ক্রস না করলে ১ রান কমিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ফাইনালের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে মার্টিন গাপটিলের হাত থেকে বল রিলিজের সময় বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ একে অপরকে ক্রস করেননি। সেক্ষেত্রে দৌড়ে দুই এবং ওভার থ্রো-তে চার অর্থাৎ মোট ছয় রান হত ইংল্যান্ডের।

কত রান হওয়া উচিত ছিল?

অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ রান দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দেওয়া হয় ছয় রান (২টি ফিল্ড রান ও ওভার-থ্রো’র চার)৷ এক রান কম হলে শেষ ২ বলে জয়ের জন্য তিনের বদলে ৪ রান দরকার হতো ব্রিটিশদের৷ এই এক রানই ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। টাই হয়ে যায় ম্যাচ। নিয়ম মেনে পাঁচ রান দিলে হয়তো বদলে যেত ম্যাচের ফল।

বেন স্টোকস অবশ্য এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন নিউজিল্যান্ড দলের কাছে৷ তিনি বলেন, এই ওভার-থ্রো’র জন্য সারা জীবন তিনি নিউজিল্যান্ডের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী থাকবেন৷ এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আম্পায়াররা কী সেই নিয়ম জানেন না? ক্রিকেটে খারাপ আম্পায়ারিং বার বার আলোচিত হয়েছে। বিশ্বকাপের শুরু থেকে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে৷ আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর৷ দু’টি সেমিফাইনাল তো বটেই, এমনকি ফাইনাল ম্যাচও বাদ গেল না সেই তালিকা থেকে৷