সাড়ে ৩ কাহন খড়, ৫ ট্রাক্টর মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৫০ ফুটের কালী প্রতিমা

নিজস্ব প্রতিবেদন : বীরভূম কথা রাজ্যে যে সকল কালী প্রতিমা এবং কালীপুজো হয়ে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি কালীপুজো হলো পুরন্দরপুরের বান্ধব সমিতির কালীপুজো। এখানকার কালীপুজো অন্যান্য এলাকার কালীপুজোর থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানকার প্রতিমায়। প্রতিবছর এখানে বিশালাকৃতির কালী প্রতিমা তৈরি করা হয়ে থাকে। কোন বছর ৫৫ ফুট, আবার কোন বছর ৫০ ফুট।

১৯৪০ সালে সিউড়ি থেকে বোলপুর যাওয়ার রাস্তায় পুরন্দরপুরে বান্ধব সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়। তারপর থেকেই এখানে কালী আরাধনা করা হয়ে থাকে। তবে প্রথম দিকে ছোট প্রতিমা দিয়েই কালি আরাধনা করা হয়ে থাকলেও আনুমানিক ৩৫ বছর ধরে বিশালাকৃতির কালী প্রতিমা দিয়ে আরাধনা করা হয়ে আসছে। করোনাকালে গত দু’বছর বড় প্রতিমার পরিবর্তে ছোট প্রতিমা দিয়ে পুজো করা হয়। তবে এই বছর এখানে পূজো হবে ৫০ ফুটের প্রতিমা দিয়ে।

পুজো উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগে ৫৫ ফুট বা তার বেশি প্রতিমা করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনিক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিমার উচ্চতা করা হয় ৫০ ফুট। প্রশাসনিক সেই নির্দেশ মেনে এই বছরও ৫০ ফুটের প্রতিমা করা হবে। সাত দিন ধরে সেই প্রতিমা থাকবে পুরন্দরপুরের পশু হাসপাতালের মাঠে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর দিন থেকে এই কালি প্রতিমা তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। তিনজন শিল্পী এবং চারজন সহযোগী শিল্পীর হাত দিয়ে এই বিশালাকৃতির কালী প্রতিমা তৈরি করার কাজ চলছে। মৃৎশিল্পীদের অনুমান, কালীপুজোর ঠিক দুদিন আগে এই প্রতিমা তৈরি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

পুরন্দরপুরের এই ৫০ ফুটের কালী প্রতিমা তৈরি করার জন্য যা যা উপকরণ প্রয়োজন হয়েছে তা সম্পর্কে মৃৎশিল্পীদের থেকে জানা যাচ্ছে, ৬০টি বাঁশ, সাড়ে তিন কাহন খড়, পাঁচ ট্রাক্টর মাটি, বাবুই দড়ি লেগেছে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি এবং সুতলি লেগেছে ১৫ কেজি। বিশাল প্রতিমা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মিলে এবার এই পুজোর বাজেট ৬ লক্ষ টাকা।