বিজেপি নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বীরভূমে

লাল্টু : মঙ্গলবার সাতসকালে বীরভূমের খয়রাশোল থানার অন্তর্গত হজরতপুর গ্রামে বছর পঁয়ত্রিশের ইন্দ্রজিৎ সূত্রধর নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার এবং বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে ওই যুবক বিজেপি নেতা ছিলেন। তিনি ৪৬ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি ছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। খুন করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপির এই দাবিকে নস্যাৎ করেছে।

মৃত ওই যুবকের স্ত্রী পূজা সূত্রধর জানিয়েছেন, “আমাকে বলে গিয়েছিল কলকাতা যাবে। এরপর দুদিন আগে পিসির ঘর যায়। তারপর বোনের ঘর যায়। কালকে আসার কথা ছিল কিন্তু আর আসে নায়। ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ পাওয়া গেলেও হাত, পা বাঁধা ছিল। মাথায় রক্তপাত ছিল, পা ভাঙ্গা ছিল। এটা সম্পূর্ণ খুনের ঘটনা।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুবরাজপুর বিধানসভার বিধায়ক অনুপ সাহা দাবি করেছেন, “আমাদের বিজেপির কার্যকর্তাকে খুন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার যেভাবে রাজ্যজুড়ে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে যেভাবে হত্যালীলা চালাচ্ছে তা মানা যায় না। যেকোনো খুনই দুর্ভাগ্যজনক। একজন মানুষকে খুন করে দেওয়ার অধিকার কারোর নেই।”

তবে বিজেপির তরফ থেকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের দিকে আঙ্গুল তোলা হলেও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি মলয় মুখার্জি জানিয়েছেন, “বিজেপি এখানে একটা মৃতদেহ পাচ্ছে সেখানে রাজনৈতিক গল্প জুড়ে দিচ্ছে। এই ঘটনা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। যেটা জানতে পারছি তাতে এখানে একটি ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সেই ঘটনায় মারধর করার পরেই মারা যায় ওই যুবক। আমরাও চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বের করুক।”

এই ঘটনার সাথে ত্রিকোণ প্রেমের একটি সম্পর্ক রয়েছে তা ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর মন্তব্য স্পষ্ট। ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর জানিয়েছেন, “শুনছিলাম নাকি এখানকার একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিল। তারা নাকি থানায় অভিযোগ করেছে। তবে আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য যারাই দায়ী হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।”

অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে কিনা অথবা ত্রিকোণ প্রেম ঘটিত কোন ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে খয়রাশোল থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ওই যুবকের দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।