স্বপ্ন প্রফেসর হওয়ার : বীরভূমের দ্বিতীয় ও রাজ্যের নবম স্থানাধিকারী সৌকর্যর

লাল্টু : “বাড়ির টিভি খারাপ, মোবাইলে বসে বসেই বাড়ির সকলে মাধ্যমিকের রেজাল্ট দেখছিলেন। কিন্তু তাতে নেট স্লো চলায় ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছিল না। তখন নিচের তলায় অন্যের বাড়িতে রেজাল্ট দেখতে চোখ রাখেন বাবা মা। আর তারপরেই ছুটতে ছুটতে বাবা এসে কেঁদে জড়িয়ে ধরে বলেন নবম হয়েছি রাজ্যে।”

ব্যাস, শোনা মাত্রই আর আনন্দ কোথায় থাকে! যদিও সৌকর্য আজ রেজাল্টের ভয়ে বিছানাতে শুয়েই ছিল। কিন্তু সেই ভয় কোথায় যেন ছুটে পালালো জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বড় সাফল্যে।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

মাধ্যমিকে সে এবার ৬৮২ নাম্বার পেয়ে রাজ্যে নবম স্থান অধিকার করেছে। জেলায় রয়েছে দ্বিতীয় স্থান। বাংলায় ৯৩, ইংরেজিতে ৯৮, গণিতে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৭, ভূগোলে ৯৯ এই রয়েছে তার বিষয় ভিত্তিক নাম্বার। সে বীরভূমের বিকেটিপিপি প্রবীর সেনগুপ্ত উচ্চ হাইস্কুলের ছাত্র। বক্রেশ্বর টাউনশিপেরই সে বাসিন্দা। বাবা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস।

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বড় সাফল্যের পর সৌকর্য জানাই, বড় হয়ে প্রোফেসর হওয়ার কথা। এবার মাধ্যমিকে পড়াশোনার জন্য পেয়ে দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যবহার করতো। পড়াশোনা ছাড়াও তার রয়েছে ছবি আঁকা এবং বাঁশি বাজানোর সখ। তাই বেশি পড়াশুনা করে এসবের প্রতিও সে সময় দিতো। তার এমন সাফল্যের জন্য সে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং বাবা মাকে কৃত্বিত্ব দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।