অবশেষে বাংলায় লাগু ৩২৪ ধারা! কি রয়েছে ৩২৪ ধারায়!

নিজস্ব প্রতিবেদন : মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদ্যাসাগর কলেজ চত্বরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখানো ঘিরে এক দফা উত্তেজনা হয়। তারপর বিদ্যাসাগর কলেজে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রোড শো শেষে দেখা যায়, বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া বাইক এবং সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিয়োও সংবাদ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে।

কারা মূর্তি ভাঙ্গলো, তাই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, আমিত শাহের রোড শো কলেজে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি সমর্থকরা। বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, নিজেরাই মূর্তি ভেঙে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল।

মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপান উতোর চরমে তখন কমিশনও ভোটের প্রচারের দিনক্ষনের সময়সীমায় কাটছাঁট শুরু করে দেয়। শুধু তাই নয় কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকেও সরিয়ে দেয়। রাজ্যে লাগু হয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা। সংবিধানের এই ৩২৪ ধারা আসলে কি! এই ধারার সুবিধাই বা কি! এই ধারা লাগু হওয়াতে কমিশন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেই বা কতটা সুবিধা পেয়ে থাকবে?

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ৩২৪ ধারা লাগু হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই অনেকের মনেই এই সকল প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। তা নিয়েই আজকের আলোচ্য বিষয়।

শেষ দফা ভোটে আগে শুধুমাত্র বাংলার জন্য কমিশন লাগু করে এই ৩২৪ ধারা রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভিত্তিতে। আর শেষ দফা ভোটের আগে এই সাংবিধানিক ধারা প্রয়োগের ভিত্তিতে পক্ষে ও বিপক্ষে যুযুধান রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে। এই ধারা প্রয়োগে কতটাই বা বিপাকে পড়তে পারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল? এই ধারা প্রয়োগে কি কোনো আলাদা সুবিধা পাবে কেন্দ্র সরকারের বিজেপি দল অথবা রাজ্যের বিরোধী দলগুলি?

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী বেশ কিছু বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এই ধারা অনুসারে নির্বাচন কমিশন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যে কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের জন্য কমিশন নিজেই ঠিক করতে পারে কোন বাহিনীকে নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী না রাজ্য সরকারের রাজ্য পুলিশ। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সরকারের অথবা আইনসভার কোন রকম অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

এমনকি নির্বাচনের দিন এগিয়ে আনা অথবা পিছিয়ে দেওয়া সবটাই স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ঠিক একইভাবে প্রচারের সময় আগানো অথবা পেছানোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। মূলত এই ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন সত্তা হিসাবে কাজ করে নির্বাচন কমিশন।

এই বিশেষ ধারার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আইন সভার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে তার জন্যই এই বিশেষ ধারার প্রয়োগ।

সাংবাদিক বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে, নির্বাচন কমিশন এই ধারার মাধ্যমে নির্বাচনের দিন কোন পুলিশ ব্যবহার হবে তা নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি রাজ্য পুলিশকে ব্রাত্য রেখে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্বারাই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এমনকি বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যপাল অথবা রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধও করতে পারে।