বাবা রাজমিস্ত্রির লেবার, মা ঘুঁটে বিক্রেতা, সেই কার্তিক মাধ্যমিকে নজর কাড়লো সবার

লাল্টু : এক চিলতে ভাঙ্গা টালির বাড়িতে এক কামড়ার ঘরে বসবাস। বাবা একজন সাধারন দিনমজুর, রাজমিস্ত্রির লেবারের কাজ করেন। ভাঙা সংসারের হাল সামলাতে দেওয়ালে ঘুঁটে দিয়ে, সেই ঘুঁটে বিক্রি করেন মা। সেই বাড়িতেই অভাবের সংসারে মানুষ হয়ে আজ কার্তিক সবার নজরে।

বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের বড়রা হাইস্কুলের পাশে বড়রা গ্রামে বসবাস তাঁদের। এমন দুস্থ পরিবার থেকে এবার মাধ্যমিকে ৬৪৫ নাম্বার জেলার শিক্ষক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জেলায় সবার থেকে বেশি নাম্বার না পেলেও সংসারে স্বাচ্ছন্দ থাকলে হয়তো আরো ভালো ফলাফল করতে পারত কার্তিক এমনই দাবি অনেকের।

কার্তিকের প্রাপ্ত নাম্বার ৬৪৫ এসেছে বাংলায় ৯৬, ইংরেজিতে ৮৭, গণিতে ৯৮, পদার্থ বিজ্ঞানে ৮২, জীবন বিজ্ঞানে ৯৪, ইতিহাসে ৯১ এবং ভূগোলে ৯৭ থেকে। এবছর সে বড়রা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

কার্তিকের বাবা উজ্জ্বল গড়াই সংসার চালানোর জন্য রাজমিস্ত্রির কাছে দিনমজুরের কাজ করে। কিন্তু তাতে যে বেতন আসে তাতে সংসারের অভাব দূর হয় না, ছেলে বড় হয়েছে, পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। তাই সেই টালমাটাল সংসারের হাল সামলাতে মা চাইনা গড়াই বেছে নিয়েছেন ঘুঁটে বিক্রির পথ। এদিক ওদিক থেকে গোবর সংগ্রহ করে সেই গোবরে দেওয়ালে ঘুঁটে দিয়ে সেই ঘুঁটে বিক্রি করেন। মায়ের এমন অদম্য প্ৰচেষ্টায় মাঝে মাঝে হাতও লাগায় কার্তিক। তবে হাল ছেড়ে বসে পরেনি কেউই। সবার অদম্য লড়াইয়ে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বড় সাফল্য কার্তিকের।

কিন্তু, মাধ্যমিকে এত ভাল রেজাল্ট করার পরেও তাদের বাড়ির সকলের কাছে এখন মাথা ব্যাথা হয়ে পড়েছে। ভালো ফলাফল করার পর কার্তিকের ইচ্ছা বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ডাক্তার অথবা শিক্ষক হওয়ার। তবে ইচ্ছা থাকলেই তো আর হয় না, বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার জন্য লাগে বিপুল অর্থ। কিন্তু এই দরিদ্র পরিবারে সেই অর্থ আসবে কোথায় থেকে! তবে কার্তিকের বক্তব্য, যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে মাথা নিচু করে সেই সাহায্য নেবে।

মাধ্যমিকে পড়াশোনা করার সময় কার্তিক কষ্ট করেও শুধুমাত্র একটি টিউশন নিয়েছিল। স্কুলের শিক্ষকরা তাকে সাহায্য করতো বই, খাতা এবং আরো যাবতীয় ভাবে। তবে তার চেষ্টা ছিল অদম্য, দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা নিয়ম করে পড়াশোনায় ব্যয় করতো সে।

বড়রা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন অধিকারী কার্তিকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আগেও আমরা ওর পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলাম, আগামী দিনেও ওর ইচ্ছা সাইন্স নিয়ে পড়ার, সেক্ষেত্রেও আমরা যতটা পারবো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।”