Vista Dome Coach: বদলে গেল হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস, এবার পর্যটকরা পাবেন ঘুরতে যাওয়ার নতুন আনন্দ

Prosun Kanti Das

Published on:

Howrah-New Jalpaiguri Shatabdi Express changed to Vista Dome Coach: ভ্রমনপ্রিয় বাঙালি বরাবরই পাহাড় ভালবাসে। পাহাড়ের টানে মাঝে মাঝেই তারা ছুটে যায় কাছে কিংবা দূরের যেকোন জায়গায়। নর্থ বেঙ্গলের পাহাড়ের সৌন্দর্য বাঙালিকে সর্বদাই আকর্ষণ করে। তবে শুধু পাহাড়ে গিয়েই কেন প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করবেন? তার আগে যাতায়াতের পথেই এই আনন্দ এখন উপভোগ করতে পারবে সাধারণ জনগণ। এই প্রথম হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের রেকে বসানো হল ভিস্তা ডোম কোচ (Vista Dome Coach)।

পাহাড়প্রিয় বাঙালি কিংবা অন্যান্য কোন জাতির কাছে এ যেন এক উপরি পাওনা। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেসে যোগ করা হল ভিস্তা ডোম কোচ (Vista Dome Coach)। এই ভিস্তা ডোম কোচে বসে খুব আনন্দের সঙ্গে পরিবারের সাথে কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে।

এতদিন পর্যন্ত ১২০৪১/১২০৪২ হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসে বগির সংখ্যা ছিল ১৪ টি যা এখন বেড়ে হয়ে গেছে ১৫ টি। ভিস্তা ডোম কোচ (Vista Dome Coach) যোগ করাতে পর্যটকদের জন্য সত্যিই সুবিধা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এর ফলে পর্যটকদের সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। কোচের ভিতর বসে বাইরের প্রকৃতিকে উপভোগ করার যে আলাদা আনন্দ তা আশা করি কেউই হাতছাড়া করতে চাইবে না।

আগে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ট্রেনে এই সুবিধা পাওয়া যেত। তবে কলকাতা থেকে এই প্রথম যাত্রীরা এই কোচের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। কলকাতা থেকে প্রথমবার চালু হচ্ছে ভিস্তা ডোম কোচ (Vista Dome Coach) । যাত্রীরা এই কোচের সুবিধা পাবেন এই মাসের প্রথম তারিখ থেকেই। আগামী বছরের ৩০ শে জুন অব্দি এই সুবিধা পাওয়া যাবে এমনটাই জানাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। শতাব্দী এক্সপ্রেসের এই ভিস্তা ডোম যদি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে তাহলেই তাকে স্থায়ী করা হবে।

আরও পড়ুন 👉 Train Speed Increased: এবার টুক করে পৌঁছানো যাবে গন্তব্যে, বাংলার এই সকল ট্রেনের গতি বাড়ালো পূর্ব রেল

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আসলে কি এই ভিস্তা ডোম (Vista Dome Coach) ? এটি হলো উৎকৃষ্ট মানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অসাধারণ ভিউ-যুক্ত কোচ। যাত্রীরা এই কোচে সুবিধা পেয়ে যাবেন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার কারণ ৩৬০ ডিগ্রি রোটেটেবল লাক্সারি পুশব্যাক চেয়ার আছে এখানে। যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারগুলি যাত্রীদের ইচ্ছা মতো যেদিকে ইচ্ছা ঘোরানো যায়। তবে সবথেকে বড় পাওনা হলো এখানকার কাচের জানলা এবং ছাদ। এর মাধ্যমে যাত্রীরা রেলপথের আশেপাশের স্বর্গীয় পরিবেশের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে কোচের ভেতর থেকেই।

এছাড়াও এখানে পেয়ে যাবেন সেল্ফ অপারেটিং স্লাইডিং ডোর, গ্লাস ব্যাক, ওয়াইফাই ও জিপিএসের সুবিধা। পাশাপাশি থাকবে ইনফোটেনমেন্টের ব্যবস্থাও। এই কোচের বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলেছেন যে, যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যাতে স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং পাশাপাশি উৎকৃষ্ট মানুষ সুযোগ-সুবিধা যাতে লাভ করতে পারে তার জন্যই এই ব্যবস্থা করার কথা চিন্তা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।