সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা ‘খোলা চিঠি’

নিজস্ব প্রতিবেদন : দেশের আপামর জনতার নজর যখন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের ফলাফলের দিকে, যখন ধীরে ধীরে সকলেই টের পাচ্ছেন পুনরায় বিজেপি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেশে তাদের সরকার গড়তে চলেছে, যখন বাংলার মানুষ টের পাচ্ছেন বঙ্গে বাড়তে চলেছে বিজেপি, ঠিক সে সময় বাংলার এক সাধারণ নাগরিক, এক সাদামাটা গৃহবধূ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে লিখে ফেললেন একটি খোলা চিঠি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে। যে খোলা চিঠি এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

লিখেছেন দেবযানী গাঙ্গুলী ব্যানার্জি নামে কলকাতার এক গৃহবধূ। তিনি কি লিখেছেন চিঠিতে!

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

লিখেছেন, “না দিদি ব্যর্থতা টা আপনার নয় তা আমাদের‌ই বটে।৩৪ বছরের এক বিশালাকৃতির গাছ উপড়ে নতুন করে চারাগাছে টব সাজানো টাই ভুল আমাদের, আমরা আশায় বাঁচতে গিয়ে কখন নিজেদের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে তুলে দিয়েছি আর তার বদলে হারের মালা গলায় পরে নিয়েছি তার উত্তর খুঁজতেই কান্না পায় প্রতি মূহুর্ত।আপনার হয়তো যাওয়ার বলতে ওই পদটা যাবে, আমাদের যাওয়ার হিসেবটা আর আপনাকে কি বা বলি আপনি তো সব জানেন‌।

আপনাকে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি ভীষন শ্রদ্ধা করি কেন জানেন আপনার শুরুর লড়াই থেকে আজ অবধি সবটা জানা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির থেকে শুধু মমতা ব্যানার্জি আমার অনুপ্রেরণা। কম ঝড় আপনার ওপর দিয়ে যায়নি, সমস্ত বাধা পেরিয়ে আজ আপনি এই যায়গায়। সবাই পারেনা আপনি যা করে দেখিয়েছেন। আর তাই আমার ভোটাধিকারের বয়স আসতেই প্রথম ভোটটা আমি আপনাকে নিঃসংকোচে দিয়েছিলাম।সেই আপনি আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে কত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একদিন,আমরা কল্পনায় সাজিয়ে তার বাস্তবায়িত করার আশায় আপনার মুখ চেয়ে নিরাশ হয়ে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে ফিরেছি। কতগুলো জেনারেশন ধুঁকে মরেছে আরো কত ধুঁকছে।আপনি মানুষটা ভালো হলেও আপনার চারপাশটা আবর্জনায় পরিপূর্ণ তা আপনি বেশ ভালোই জানেন আর জানবেন নাইবা কেন আপনি পশ্চিম বাংলার সঞ্চালক আপনি তো আরো বেশি করেই জানেন কোথায় কতটা খাদ কতটা তাপ্পি মারা।আর জেনে চুপ থাকা বা পার্শেয়ালটি করাটাই আমরা মেনে নিতে পারিনা।

আমাদের সবার বাড়িতেই প্রায় ফুলদানি আছে তবে ফুলদানির গোলাপটা শুকিয়ে গেলে আমরা ফেলে দিলেও আমরা ফুলদানি ফাঁকা রাখিনা, কিছু জঙলা ফুল হাতের সামনে পেলে তাই সাজায়, গন্ধ সৌন্দর্য তার নাইবা থাকুক।আপনি হলেন গিয়ে সেই গোলাপটা।আমরা জানি বিজেপি বাংলায় এলে আরো অবনতির সম্মুখীন হব তবুও ওই যে বল্লাম আশায় বাঁচে চাষা, যদি এরচেয়ে একচামচ বেশি পাই।আমরা এটা কখনোই চাইনা দূর থেকে কেউ মিত্রো মিত্রো করুক,চেয়েছি আমাদের মধ্যেই বসবাস করে আমাদের জ্বালা জুরাক।তাই আপনাকে সিংহাসনে বসিয়ে ছিলাম দিদি এখনো তাই ইচ্ছে দিদি।এরপর আপনি যদি ভাবেন এবার বিধান সভায় ফিরলেও পরের বার আবার আসব তাহলে কিন্তু নয়,আমরা সবগুলো ট্রাই করে যখন দেখব আবার নতুন করে বামপন্থী দিয়ে শুরু করার পালা আর তারা যদি ওতপ্রোতভাবে মিশে যায় আগের ভুলগুলো শুধরে তবে আগামী ৩৪ কেন ৬৮ বছর‌ও তারাই থেকে যাবে।তাই বলি দিদি এবার একটু ভাবুন।

মানুষ কিন্তু দল আজ মানেনা,আগে বাড়িতে ২০জন সদস্য থাকলে বড়োরা যাকে ভোট দিত শুনতো সকলে মিলে তাতেই দিত।এখন কিন্তু এক‌ই বাড়িতে বাবা এক মা এক ছেলে মেয়ে নিজেদের ভাবনায় আরেক কে ভোট দেয়।তাই বলছি, ভালো কাজের দিকেই মানুষ,দল আজ নামেই শুধু চলে।
এখনো সময় আছে দিদি,আমরাও পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি, আপনি আমাদের নিয়ে ভাবুন আমরা আপনাকেই মাথায় করে রাখব।”

এক ঝলকে সেই চিঠি –