৩০ বছর পর ২০০ টাকা ধার মেটাতে ভারতে এলেন কেনিয়ার সাংসদ

২০০ টাকা ফেরৎ দিতে সুদূর কেনিয়া থেকে ভারতে ছুটে এলেন এক ব্যক্তি, তিনি শুধু সাধারণ ব্যক্তি নন একজন কেনিয়ার সাংসদও। আসলে বন্ধুত্বের টানে ৩০ বছর পর ছুটে এসেছেন সুদূর কেনিয়া থেকে ভারতে ২০০ টাকার ঋণ শোধের অজুহাতে। বলাইবাহুল্য “তেরে জ্যায়সা ইয়ার কাহাঁ, কাহাঁ এইসা ইয়ারানা।”

শোলে সিনেমায় আমরা দেখেছি জয় ও বীরুর বন্ধুত্ব, থ্রি ইডিয়েট সিনেমায় দেখেছি রাজু, ফারান, র‍্যাঞ্ছোর রসায়ন। তবে চলচ্চিত্র জগতের এই সকল বন্ধুত্বকে হারিয়ে দিল ভারত ও কেনিয়ার দুই দেশের বাসিন্দা বন্ধুত্ব। বছর দিয়ে বন্ধুত্বের বিচার হয় না, প্রমাণ করে দেখালো কেনিয়ার সাংসদ রিচার্ড টোঙ্গি।

Source

ঘটনার সূত্রপাত আজ থেকে ৩০ বছর আগে। সে সময় রিচার্ড টোঙ্গী নিজের দেশ কেনিয়া ছেড়ে ভারতের ওরঙ্গাবাদের একটি ম্যানেজমেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করতে আসেন। কিন্তু সে সময় তিনি ভারতে এসে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েন, সময়টা আশির দশক। আর সেই আর্থিক দুর্গতির মুখে পড়ে তিনি স্থানীয় এক মুদিখানার মালিকের কাছ থেকে ধার নেন ২০০ টাকা। টাকা ধার নেওয়ার সাথে সাথে ওই মুদিখানার মালিক কাশীনাথ গাউলির সাথী তার হয়ে যায় বন্ধুত্বও। কিন্তু তারপর গল্পের মোড় আসে।

পড়াশোনা শেষ করার পর রিচার্ড টোঙ্গি চলে যান তার নিজের দেশ কেনিয়ায়। দেশে ফিরে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে চাকুরীজীবী হিসাবে শুরু করেন জীবনযাপন। কিন্তু পরে আবার তিনি নির্বাচিত হন কেনিয়ার একজন সাংসদ হিসাবে।

আর এই সময়ের মাঝে কেটে যায় বহু বছর, কিন্তু রিচার্ড ভুলে যাননি তাঁর বিপদের সময় দাঁড়ানো ভারতের বন্ধুকে। আর তারই টানে ভারতে পা রাখলেন কেনিয়ার ওই সাংসদ। দেখা করলেন তিরিশ বছরের পুরাতন বন্ধু কাশীনাথের সাথে।

প্রথমে কাশীনাথ ৩০ বছরের পুরাতন ওই বন্ধুর ফোন পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। পরে নিজেকে সামলে পুরাতন বন্ধুর জন্য প্রহর গুনছিলেন। আর কেনিয়া থেকে এসে প্রথমেই কাশিনাথের ওই দোকানে গিয়ে পৌঁছান রিচার্ড। পুরাতন ধারের কথা মনে পড়িয়ে ৩০ বছর আগে নেওয়া ২০০ টাকা পরিশোধও করেন।

Source

এরপর দীর্ঘদিন পরে পুরাতন বন্ধুকে ফিরে পেয়ে কাশীনাথ নামি দামি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজের আহ্বান জানান দিয়েছি সেই বন্ধুকে। কিন্তু সেই আহ্বানে অমত জানিয়ে কাশীনাথের মত দোকানীর মেঝেতে বসেই পাত পুড়ে খাবার খেলেন কেনিয়ার সাংসদ।

ওরঙ্গাবাদের সামান্য মুদিখানা দোকানের মালিক কাশীনাথ এমন বন্ধুকে পেয়ে বেজায় খুশি। কারণ এই বন্ধু পাহাড় প্রমান উঁচু হয়ে গেলেও মাটি থেকে পা সরেনি তাঁর। তাইতো আজ সে সুদূর কেনিয়া থেকে ভারতে পাড়ি দিয়েছেন অসময়ে পাশে দাঁড়ানো বন্ধুর ঋণ মেটাতে, তাঁর খোঁজ নিতে।