রং তুলির পরিবারের আধার ঘরে মানিক, মাধ্যমিকে ৫৮১ পেয়ে দেখাচ্ছে স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন : মহঃবাজারের প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ এক ছবি আঁকার মাস্টার মশাইয়ের ছেলে মাধ্যমিকে ৫৮১ পেয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছে পরিবারকে। কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধা একটাই অর্থ। আঁকার মাষ্টার মশাই এ গ্রামে, ও গ্রামে ছবি আঁকা শেখালে কেউ মাইনে দেয়, কেউ দিতে পারে না। কেউ বা বেতনের বদলে জমির কুমড়ো আলু দিয়ে আঁকার মাস্টারের মন ভরায়। তাই ছবি আঁকার মাস্টার মশাই-এর অভাব নিত্য সঙ্গী।

কিন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ জনের বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না। তাই কোনদিন অভাবের কথা কাউকে জানাতে চায় না ছবি আঁকার মাস্টার মশাই অর্নব ব্যানার্জী। সাইকেল নিয়ে ঝোলা কাঁধে সকাল হলেই রওনা দেন এ গ্রামে, ও গ্রামে। তা থেকে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে তিন ছেলে ও স্বামী স্ত্রী কোনক্রমে চলে। কিন্তু ছেলেদের পড়াশুনা, প্রাইভেট টিউশন, খাতা বই এত কিছু যোগান দেওয়া সত্যিই অসম্ভব।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

সেই পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র করণ ব্যানার্জী এবছর মহঃবাজার ডাঃ সুধাকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে মোট ৫৮১ নাম্বার পেয়ে নজির গড়েছে। শতকরা হিসাবে তার প্রাপ্ত নম্বর ৮৩%। কিন্তু এই অভাবী পরিবারের উচ্চ ক্লাসে পড়ানো এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায় আর্থিক যোগান। কারন উচু ক্লাসে বই কেনা, প্রাইভেট টিউশন বেতন দেওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই কি করে পড়া চালিয়ে নিয়ে যাবে তা ভেবে উঠতে পারছে না পরিবার।

পরিবারের বড় ছেলে ছিল একমাত্র রোজগেরে সুরজ ব্যানার্জী ফিলিপ কার্টের ডেলিভারি বয়ের কাজ করে পরিবারকে অনেকখানি সাহায্য করত। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর পথ দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ফলে এখন পরিবারের অভাব নিত্য সঙ্গী। এই অবস্থায় উচু ক্লাসে পড়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে করণ ব্যানার্জী। ওর মেজ দাদা কিরন ব্যানার্জীও অভাবের সংসারে নিজে টিউশন পড়িয়ে এখন কলেজে পড়ে। টাকার অভাবে অনার্স পরতে পারে নায়। তবে তার বক্তব্য ভাই আর ভালো ফল করতে পারতো যদি ও আরও স্বচ্ছল ভাবে পরতে পারতো।

করণ তার এই সাফল্যের জন্য গ্রামের দুই গৃহ শিক্ষক সুশান্ত অধিকারী এবং ভেঙ্কট মন্ডল মহাশয়কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। কারন তাঁরা বিনা পয়সায় কয়েকটি সাবজেক্ট দেখিয়ে দিতেন। স্কুলের একাধিক শিক্ষকের প্রতিও যথেষ্ঠ অবদান স্বীকার করেছে করণ। তাঁরা বই, নোট দিয়ে সাহায্য করেছে। স্কুলের সহ শিক্ষক শুভঙ্কর দত্ত বলেন, “আমরা ও পড়াশুনা ইচ্ছা দেখে ওকে বই পত্র জোগাড় করে দিয়ে সাহায্য করেছি। কিন্ত ও বা ওর পরিবার কোন দিন কারও কাছে সাহায্য চায় নি। ওর এই ফলাফলে আমরা উচ্ছ্বসিত।”

একদা বীরভূমের বিখ্যাত শিল্পী চিত্রকর পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতি করণ বড় হয়ে মাস্টার হতে চায়। তাই ও অনেক বড় হবার স্বপ্ন নিয়ে পড়তে চায়। তবে করণের বাবা অর্নব বাবুর বক্তব্য, করণ আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো। ওর ফলাফলের জন্য আমাদের কোন যোগদান নেই। স্কুল ও মাস্টার মশাইদের কৃতিত্বেও আজ ও এই জায়গায়। তবে উচু ক্লাসে আর পড়াতে পারব কিনা জানি না!