Income Taxes of Ministers: আমার আপনার করের টাকায় আয়েশ নয়, মন্ত্রীদের নিজের বোঝা সামলাতে হবে নিজেদেরই

Prosun Kanti Das

Published on:

The government has issued guidelines for ministers to pay their own taxes: আমরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সরকারকে বেশ কিছু টাকা কর হিসেবে দিয়ে থাকি। এই করের টাকাই আবার ব্যবহার করা হয় জনসাধারণের কল্যাণে, কিছুটা সরকারি খরচ মেটানোর জন্য। কিন্তু করের টাকায় শুধুমাত্র জনসাধারণের কল্যাণ নয়, পাশাপাশি সেই টাকার কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকে মন্ত্রীরাও। ১৯৭২ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত ১ টি নিয়ম প্রচলিত ছিল। মন্ত্রীদের কোনরকম ট্যাক্স জমা দিতে হয় না। সাধারণ মানুষের দেওয়া করের টাকা থেকেই সেই ট্যাক্স মেটানো হতো। কিন্তু এই সুখের দিন শেষ। এখন থেকে মন্ত্রীদেরকে নিজেদের আয়করের টাকা (Income Taxes of Ministers) নিজেদেরকেই মেটাতে হবে। মন্ত্রীদের উপর করা নির্দেশিকা জারি করলো সরকার।

সাধারণত বাৎসরিক আয় নির্দিষ্ট সীমা পার করলে উপার্জনের উপর নির্ভর করে কিছু পরিমাণ আয়কর (Income Taxes of Ministers) দিতে হয় প্রত্যেককেই। এতোদিন মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না। ১৯৭২ সালে তৈরি হওয়া ১ টি নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রীদের করের টাকা মেটানো হতো সাধারণ মানুষের টাকা থেকে। তাতে অনেকটা টাকা সঞ্চয় হয়ে যেত মন্ত্রীদের। কিন্তু এখন থেকে আর তা করা যাবে না। মধ্যপ্রদেশের রাজ্য সরকার সম্প্রতি এমনই নির্দেশিকা জারি করেছেন মন্ত্রীদের উপর। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব স্বয়ং এই প্রস্তাব তুলেছেন ক্যাবিনেট বৈঠকে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ ক্যাবিনেটের পক্ষ থেকে ১ টি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ১৯৭২ সাল থেকে ১ টি নিয়ম প্রচলিত ছিল। মমন্ত্রীদেকে আলাদা করে কোন করের টাকা দিতে হতো না। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে এখন থেকে নিজেদের করের টাকা (Income Taxes of Ministers) নিজেদের দিতে হবে বলে মন্ত্রীদের জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রথম স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই প্রস্তাব তোলেন। তিনি বলেন সরকারি সাহায্য না নিয়ে নিজেদের করের টাকা নিজেদেরই শোধ করা উচিত মন্ত্রীদের। এরপর মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন 👉 CGHS Card Rules: নিয়মে বদল আনল কেন্দ্র, সিজিএইচএস কার্ড নিয়ে এবার জারি নয়া নির্দেশিকা

১৯৭২ সালে তৈরি হওয়া এই নিয়ম ২০২৪ এ এসে ভেঙে দেওয়া হল। এখন থেকে আর মন্ত্রীদের করের টাকা (Income Taxes of Ministers) দেবে না রাজ্য সরকার। মন্ত্রীত্ব পদে আসা সমস্ত ব্যক্তি আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্য নাও হতে পারেন। অনেকেই আছেন যারা দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। মন্ত্রিত্ব পদে যুক্ত হওয়ার পরই তাদের উপর আয় করের বোঝা চাপিয়ে দিতে চায়নি মধ্যপ্রদেশ সরকার। সেই জন্যই ১৯৭২ সালে এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল। মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব এদের বাৎসরিক বেতন বা ভাতার উপরে কোনরকম কর যুক্ত করা হবে না। উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মন্ত্রীদের আয়করের বোঝা থেকে মুক্ত করা।

কিন্তু সম্প্রতি এই নিয়মের পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রিত্ব পদে আসীন প্রত্যেককেই নিজেদের করের টাকা (Income Taxes of Ministers) নিজেদেরকেই দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকার আর কোন সহযোগিতা করবেনা মন্ত্রীদের। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পিছনে যে আর্থিক সঞ্চয় ১ টা বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না কারোরই। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেসের দল নেতারা বর্তমান সরকার গঠনকারী দল বিজেপির এই সিদ্ধান্তে কোনোভাবেই সম্মত নয়। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেছে, সরকারের উচিত আগে অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো কমানো। বিমান বা লাক্সারি গাড়ি কেনা, সরকারি বাংলোকে নতুন করে সাজানো এই সমস্ত খরচগুলি একান্তই অপ্রয়োজনীয়। এগুলি বন্ধ হলেই আর্থিক সমস্যা অনেকটাই মেটানো সম্ভব হবে।