২০১৪ সালের মোদির জয়ের কারিগর প্রশান্ত কিশোর এবার তৃণমূলের রণনীতিকার

নিজস্ব প্রতিবেদন : ২০১৪ সালে ‘অচ্ছে দিন’ – এর রণনীতি নিয়ে দেশজুড়ে হয়েছিল মোদি ঝড়। সে বছরের লোকসভা নির্বাচনে মোদি ব্র্যান্ডের উত্থান। তারপর থেকেই একের পর এক সাফল্য ঘরে আসে মোদির। কিন্তু মোদির এই ভাবমূর্তির রূপকারের নেপথ্যে ছিলেন যে ব্যক্তি তিনি আর কেউ না প্রশান্ত কিশোর। তিনিই ২০১৪ সালের মোদির নির্বাচনের কৌশলী রূপকার। ২০১৪ সালে প্রশান্ত কিশোরের সাফল্য উঠে আসে নির্বাচনের ফলাফলে।

আর এবার লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি সেই প্রশান্ত কিশোরের সাথে গাঁটছাড়া বাঁধলেন। আজ নবান্নে দেড় ঘন্টা বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় আগামী একমাস পর থেকে মমতার সাথে কাজ শুরু করবেন প্রশান্ত কিশোর বলে সূত্রের খবর।

শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮ টি আসন বঙ্গ থেকে তুলে নেওয়ার পরই এরাজ্যে রাতারাতি বেড়েছে বিজেপি। তৃণমূল ছেড়ে বিধায়ক থেকে কর্মী অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন বিজেপির দিকে। এহেন কঠিন লড়াইয়ের মুহূর্তে মোদির স্ট্যাটেজিকার প্রশান্ত কিশোরকে সামনে রেখে রথের রশি টানতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

রাজনীতির স্ট্যাটেজিকার প্রশান্ত কিশোরের সাফল্যের দিকে চোখ রাখলে বলাই বাহুল্য খাঁটি হীরে তিনি। ২০১৪ সালে দেশজুড়ে মোদি ঝড় তুলেছিল তাঁরই স্ট্র্যাটেজি। পরে তিনি বিহারের নীতীশ কুমারের সাথেও কাজ করেছিলেন। সে সময় প্রবল মোদী ঝড়ের সামনে বিহারে মোদি ঝড়কে রুখে দিতেও সক্ষম হয়েছিল মহাজোট। তারপর তাঁকে বিহারের ক্যাবিনেট মর্যাদাও দিয়েছিলেন নিতিশ কুমার। কিন্তু বিজেপির আপত্তিতে সেই মর্যাদা অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

সদ্য অন্ধ্রপ্রদেশে শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনেও বড় মাপের সাফল্য অর্জন করে এই নির্বাচনী স্ট্রাটেজিকার প্রশান্ত কিশোর। এই নির্বাচনে তিনি অন্ধপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগমোহনের হয়ে কাজ করেন। আর ফলাফলে দেখা যায় ১৭৫ টি আসনের মধ্যে ১৫০ টি আসন দখল করে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, কুপোকাত হয় চন্দ্রবাবু নাইডুর দল।

তবে এত এত সাফল্যের মাঝে ব্যর্থতা রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রশান্তকে কাজে লাগিয়েছিল রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেখানে ফলাফলের নিরিখে দেখা যায় প্রশান্ত কিশোরের স্ট্রাটেজি মুখ থুবড়ে পড়ে।

তবে বাংলার দীর্ঘ রাজনীতিতে পেশাদার রাজনীতিকারেরর নিয়োগ এবারই দেখা গেল এবং এমন ঘটনা বেনজির বলে মতামত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।