মা সাফাই কর্মী, বাবা টোটো চালক, ছেলে নজর কাড়লো উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে সপ্তম হয়ে

অমরনাথ দত্ত : সাফাই কর্মীর আঁধার ঘরের মানিক রাজীব হাজরা। সে এবার বীরভুমের বোলপুর হাইস্কুল থেকে রাজ্যের মেধাতালিকায় নিজের নাম তুলতে সক্ষম হয়েছে। মেধা তালিকায় সপ্তম স্থানাধিকারী হিসাবে নিজের নাম তুলেছে সে, স্বভাবতই পরিবার দেখছে আলোর ভবিষ্যৎ।

রাজীবের বাবা প্রশান্ত হাজরা একজন সাধারন টোটো চালক। মা কৃষ্ণা হাজরা বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের সাফাই কর্মী। বাবা টোটো চালিয়ে আর মা সাফাইয়ের কাজ করেও কোথাও কোনো রকম খামতি রাখেননি ছেলের পড়াশোনায়। আর তারই যেন আজ পাওয়া গেল সফলতা। তাঁদের ছেলে রাজীব আজ উচ্চমাধ্যমিকে ৪৮৯ নাম্বার পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় সপ্তম।

ছেলে রাজীব এমন ফলাফল করার পর জানাই, “খুবই ভালো লাগছে। পরবর্তীকালে কেমিস্ট্রি অনার্স নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা।”

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

রাজীব জানাই, “পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রথম দিকে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা এবং পরে শেষ তিন মাস ১৪ ঘণ্টার বেশি পড়াশোনা করেছি। তবে পড়াশোনার জন্য বাঁধা ধরা কোন সময় ছিল না, ভালবেসে পড়তাম।”

ভবিষ্যতে কি করতে চায়, সেই প্রশ্নের উত্তরে রাজিব জানায়, “পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো নেই তাই এবার পরিবারকে একটু দেখতে চাই। আহা মরি আর কিছু না।”

তবে ছেলের কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও হাসপাতালে সাফাই কর্মী মা কৃষ্ণা হাজরার একান্তই ইচ্ছা ছেলেকে ডাক্তার হিসাবে দেখতে। মা জানান, “ছেলের প্রতি প্রথম থেকেই বিশ্বাস ছিল। এই বিশ্বাসকে আজ বাস্তবায়িত করেছে রাজিব। আমি ওকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চাই।”

আলালের ঘরের দুলাল রাজিব শুধু নিজের পরিবারকে গর্বিত করেনি, এমন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে পড়াশোনাকে ভালবেসে পড়াশোনা করে নিজেকে মেধাতালিকায় যুক্ত করতে পেরে মুখ উজ্জ্বল করেছে সমগ্র জেলাবাসীর।