ছাপা বন্ধ রেলের পিচবোর্ড টিকিট ; চিরতরে জাদুঘরে ঠাঁই হলুদ অতীতের

নিজস্ব প্রতিবেদন : বন্ধ হতে চলেছে লোকাল ট্রেনের পিচবোর্ডের হলুদ টিকিট। ১৬৬ বছর পথ চলার পর অবশেষে বিশ্রাম নিতে চলেছে এই টিকিট। ভারতীয় রেলের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছর মার্চ মাসের পর থেকে আর এই টিকিট ছাপানো হবে না। ১৬৬ বছরের বর্ণময় ইতিহাস স্থায়ী পেতে চলেছে জাদুঘরের নীরব প্রকোষ্ঠে।

যদিও বর্তমানে এই বর্ণময় টিকিট বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ইতিহাস, তাও এখনো চলছে। কিন্তু এই চলা সমাপ্তি ঘটবে আগামী বছর মার্চ মাসে। ২.২৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য আর ১.২২ ইঞ্চি চওড়ার এই বিবর্ণ হলুদ ম্যারমেরে কাগজের টিকিট, যার একদিকে থাকে গন্তব্য স্থান ও সময় উল্লেখ আর অন্য দিক খালি। শুধু ট্রেনের টিকিট হিসেবেই নয়, এই টিকিট চেয়ার টেবিলের ভারসাম্য রক্ষা করতে কতটা কাজে লাগে, ততটাই ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের খেলার সঙ্গী। শুধু লোকাল টিকিটের ক্ষেত্রে নয়, দূরপাল্লা, ডেইলি সমস্ত রকম ক্ষেত্রেই ব্যবহার হতো এই পিচবোর্ডের টিকিট।

পিচবোর্ডের এই টিকিটের জন্ম হয়েছিল ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে এডমন্ডসন সাহেবের হাত ধরে। আর সে কারণেই তাঁর নাম ধরেই এই টিকিটের নাম হয়েছিল। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ইংল্যান্ডে প্রথম রেলের টিকিট হিসাবে এই টিকিটের ব্যবহার হয়। ১৩ বছর পর যখন ভারতে যাত্রীবাহী রেলের সূচনা ঘটে তখন ইউরোপে এই রেল টিকিট যথেষ্টই জনপ্রিয়।

সূচনার প্রথমদিকে এই টিকিট বিলের থেকেই ছাপা হয়ে ভারতে আসতো। ভারতীয় রেলের আধিকারিকদের থেকে জানা যায়, ‘এডমন্ডসন ক্যাবিনেট’ একটি ক্যাবিনেটের মধ্যে বিভিন্ন গন্তব্যের টিকেট বিভিন্ন খোপের মধ্যে রাখা হতো। যাত্রীদের চাহিদামত রেল কর্মীরা সেই বিভিন্ন খোপ থেকে টিকিট বের করে কেবলমাত্র গন্তব্যের দিনটুকু পাঞ্চ করে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতেন।

বর্তমান কম্পিউটারাইজড রেল টিকিটের আমলে পিচবোর্ডের এই বিবর্ণ হলুদ বর্ণের টিকিটের দিন সমাপ্তির দিকে। ভারতীয় রেলের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের মার্চ মাসের পর থেকে এই টিকিটকে কেবলমাত্র দেখতে পাওয়া যাবে জাদুঘরের নীরব প্রকোষ্টে।