নেতা মন্ত্রীদের ভিড়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রামনবমী : অস্ত্র ছাড়াই শোভাযাত্রায় বাঙালিরা

নিজস্ব প্রতিবেদন : দেশজুড়ে চলছে গণতন্ত্রের উৎসব লোকসভা নির্বাচন। আর তার মাঝেই রাম নবমী আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে এবার। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না রাম নবমীর। উপেক্ষা করার ছবিও কোথাও ধরা পড়েনি, তবে রীতি মেনে রামনবমীর ঐতিহ্য অস্ত্র পুজো করা হয় বিভিন্ন জায়গায়। অস্ত্র নিয়ে না হলেও আরও জমজমাট এবারের রামনবমী।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মন্ত্রীদের ভোটারদের ভোট নিজেদের পকেটে টানতে রামনবমীর মিছিলে ভিড় করতে দেখা যায়। সে বিজেপি হোক অথবা তৃণমূল পিছিয়ে নেই কেউ। বীরভূমের রামপুরহাটে রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে দেখা গেল রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে, অন্যদিকে দুবরাজপুরে মিছিলে বিজেপি জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, কড়িধ্যায় রামনবমীর মিছিলে নাচতে দেখা গেল জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মন্ডলকে। বোলপুরে গতকালই দেখা মিলেছিল বীরভূম জেলা বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষকে রামনবমীর র‍্যালির অগ্রভাগে। পুজোয় মাতলেন বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল।

এবার রামনবমী হলো একেবারে অস্ত্র ছাড়াই। শোভাযাত্রায় পায়ে পা মেলাতে দেখা গেল ঘরের মেয়েদের থেকে বয়স্কদেরও। হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ। এই আকর্ষণকে আরো বাড়িয়েছে নেতা-মন্ত্রীদের রামনবমী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ। প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত।

রাম নবমী শোভাযাত্রা নিয়ে অবশ্য বিগত কয়েকদিনে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা হতে বাকি কিছু ছিল না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন সাফ জানিয়ে দিলেন, এবারও রামনবমীতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল হবে।

ঠিক তখনই শিলিগুড়ির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ রাম নবমীর দিন সবাইকে শুভেচ্ছা। ধর্ম মানে দানবিকতা নয়, মানবিকতা। নতুন করে এরা তৈরি করেছে। এই সংস্কৃতি আমদানি করা হয়েছে, এটা আমাদের নয়। ধর্মকে নিয়ে কেন রাজনীতি করছেন, তার কৈফিয়ত দিতে হবে।”

কম যায়নি বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও। তিনি জানিয়েছিলেন, “হিন্দু পরিষদ যত বড় র‍্যালি করবে, তার থেকেও বড় র‍্যালি হবে তৃণমূলের।”

অনুব্রত মণ্ডলের এই বক্তব্যকে আবার ছেড়ে কথা বলেনি বীরভূম জেলার বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “করুন না, আমরা তো চাই। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ভয় পেয়ে যান তাহলে ভয় পাবেন না অনুব্রত।” এরপরই তিনি হুঙ্কারের সাথে বলেন, “আপনি রামনবমী করুন, আমাদেরকে অনুসরন করুন, আমাদের পিছন পিছন হাঁটুন। উনাকে আমাদের পিছন পিছন হাঁটতে হবে, আমাদেরকে অনুসরণ করতে হবে।”

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রাম নবমী। ভোটের বাজারে ভোট টানতে তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নেতা, মন্ত্রী এখন সকলেই রাম ময়দানে।