রথ এবার রাজবাড়ি থেকেই… চলছে প্রস্তুতি

লাল্টু : দীর্ঘ ১৫-১৭ বছর পর আবার হেতমপুর রাজবাড়ি পুনরায় রথ পরিচালনা করতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময় এই রথ বের হতো এবং দেখভালের দায়িত্ব ছিল হেতমপুরের গৌড়ীয় মঠের।

এই সময়ের রীতি মেনে শতাব্দী প্রাচীন এই রথ প্রথমে গৌরাঙ্গ মন্দির থেকে বের হতো, তারপর তা প্রবেশ করতো হেতমপুর রাজবাড়িতে। রাজবাড়ী থেকে বেরিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করার পর রাধাবল্লব বাড়িতে যাওয়ার রীতি রয়েছে।

তবে এবার এই শতাব্দী প্রাচীন রথ আর গৌরাঙ্গ মন্দির থেকে বের হবে না, এবার বের হবে হেতমপুর রাজবাড়ী থেকে। যা এই প্রথম, রথ রাজবাড়ী থেকে বের হলেও রীতি মেনে গ্রাম পরিক্রমা করার পর রাধাবল্লব বাড়িতে যাবে।

আর রাজবাড়ী থেকে রথ বের করার জন্য ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে রাজবাড়িতে। শতাব্দী প্রাচীন এই পিতলের রথ পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত সকলে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কাঠের মূর্তি। এবার রথের দড়ি টেনে শুভ সূচনা করবেন রানী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

রাজকন্যা বৈশাখী চক্রবর্তীর গত ১৫-১৭ বছরের দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বে থাকা গৌড়িয় মঠের বিরুদ্ধে সামান্যতম ক্ষোভ রয়েছে। তিনি জানান, গৌড়ীয় মঠ এসময়ে মহাপ্রভুকে রথে চড়াতেন না।

রাজকন্যা আরও জানান যে, গৌরাঙ্গ মঠ এই রথ গৌরাঙ্গ মন্দির থেকে বের হওয়ার পর তারা রাজবাড়ী ঢোকাতে চাইতেনও না।

প্রসঙ্গত, শতাব্দী প্রাচীন পিতলের রথ নিয়ে আসা হয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে, লন্ডনের স্টুয়ার্ট কোম্পানির এই রথ। এক সময় এই রথ টানত ঘোড়ায়, তবে এখন মানুষেই টানে। এই রথ শুধু পিতলের তাই নয়, অত্যাধুনিকও। যার মধ্যে স্টিয়ারিং, ব্রেক, সকার অর্থাৎ গাড়ির যেমন পাতি থাকে তা সবই আজও রয়েছে। এখন আর রাজা, রাজত্ব না থাকলেও রয়েগেছে স্মৃতিটুকু।