শনিবার স্কুলে পড়ুয়াদের হাজিরা হাতেগোনা, হাজিরা টানতে অভিনব উদ্যোগ প্রধান শিক্ষকের

হিমাদ্রি মন্ডল : শনিবারের স্কুল মানেই মজার স্কুল, বই খাতা ছাড়ায় পড়াশোনা। কোনদিন ম্যাজিক তো, কখনো বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলাধুলা ও বিভিন্ন বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষা নেওয়ার দিন। তাই কোনভাবেই ছুটি নেওয়া যাবে না শনিবার, আর এমন ভাবনাতেই স্কুলমুখী হচ্ছে বহু ছাত্র-ছাত্রী।

কড়িধ্যা যদুরায় উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় হাজারখানেক, সোম থেকে শুক্র ছাত্র-ছাত্রীদের গর হাজিরা থাকে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ, কিন্তু শনিবার হতেই তা নেমে দাঁড়ায় ১০ শতাংশের নিচে। এমন ভাবেই চলে আসছিল এতদিন, কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসছে না কেন? এর কারন খুঁজতে খুঁজতে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারেন শনিবার ক্লাস হয় মাত্র চারটি। সে কারণেই ছাত্রছাত্রীরা দূর-দূরান্ত থেকে স্কুলে আসছে না। এরপরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার লাইন মাথায় আসে শিক্ষকদের।

“ভুলিয়ে দিয়ে পড়া
আমায় শেখাও সুরে গড়া
তোমার তালা ভাঙার পাঠ

আর কিছু না চাই
যেন আকাশ খানা পাই
আর পালিয়ে যাবার মাঠ।”

এরপরই প্রধান শিক্ষক সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্র- ছাত্রীদের স্কুলমুখী করতে প্রত্যেক শনিবার শনিবার ক্লাস রুমের ভেতর বসে পড়াশোনা নয়। হাতে কলমে শিক্ষা দিতে হবে ছাত্রছাত্রীদের, বিভিন্ন মজার বিষয়কে শিক্ষামূলক ভাবে তুলে ধরতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। আর সে কারণেই এ দিন শনিবার থেকে শুরু হলো শনিবারের “আনন্দপাঠ” অনুষ্ঠান।

এই আনন্দপাঠ অনুষ্ঠানে কোন শনিবার থাকবে ম্যাজিক দেখানো, কোন শনিবার সাপ চেনা, বিজ্ঞানচেতনা, সংগীত ও নাটক সম্বন্ধীয় বিভিন্ন জিনিস। আর এর সমস্ত খরচ বহন করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রধান শিক্ষকের এমন ভাবনাতে সাফল্য পেয়েছে চরম। অন্যান্য শনিবার স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা হত মেরে কেটে ৭০ থেকে ৮০ জন। আজ সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ জন।

আর প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় চরম আনন্দিত ছাত্রছাত্রীরাও। তাদের কথায়, “শনিবারের দিনটা এখন আর বোরিং লাগে না, বাড়িতে বসে থাকতে মন চাই না। স্কুলে আসতে ইচ্ছা করে, কারণ প্রত্যেক শনিবার নতুন নতুন কিছু দেখার জানার সুযোগ পাই।”