দুধের শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে ফের অনন্য নজির সিউড়ি হাসপাতালের

নিজস্ব প্রতিবেদন : ঝাড়খণ্ডের এক দুধের শিশুর প্রাণ বাঁচালো সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। গলার ভিতরে খেলনা আটকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়খণ্ডের দুমকা হাসপাতাল অপরাগ হওয়ায় সিউড়ি নিয়ে আসে হতদরিদ্র পরিবার। সিউড়ি হাসপাতালে চিকিৎসকের দক্ষতায় প্রান বাঁচালো দুধের শিশুর।

অভাবের ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে মাঠে ক্ষেত মজুরির কাজে গিয়েছিল মা বাবা। মাঠের পাশে গাছ তলায় চার বছরের দাদার সঙ্গে ছোট ভাইকে শুইয়ে দিয়ে মাটি কাটছিল স্বামী স্ত্রী। ছেলে ভোলাতে হাতে দিয়েছিল খেলনা।

আচমকা ৮ মাসের ছোট্ট শুভম, খেলতে খেলতে মুখে মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে খেলনাটা। বড় ছেলে চিৎকার করে মাকে ডাকতেই, কোদাল, বেলচা ফেলে ছেলে কোলে নিয়ে মুখে হাত ভরে খেলনা বের করার চেষ্টা করলেও কোন কাজ হল না।

অগত্যা কোলের ছেলে নিয়ে বাবা শুভম মুর্মু ও মা ফুলমনি মুর্মু যায় দুমকা হাসপাতালে। সেখানে শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় নিতে চায় নি। গ্রামের লোকজন পরামর্শ দেয় সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। চার ঘন্টা গাড়ি করে এসে বুধবার দুপুরে পৌঁছায় সিউড়ি সুপার স্পেসালিটি হাসপাতালে। ইতিমধ্যেই শিশু চরম শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে গেছে।

সিউড়ি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার বেলকুটি গ্রামের একটি শিশুর মুখে ঢুকে যায় খেলনা। দমবন্ধ হবার অবস্থা। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসছে। এই অবস্থায় সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবার। আশঙ্কাজনক শিশুটিকে দেখে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নার্সরা হাসপাতালে ই.এন.টি. ডাঃ অর্নব দত্তকে ডেকে পাঠান। চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে মুখে হাত ভরে শ্বাসনালী কাছে আটকে যাওয়া খেলনাটাকে প্রথমে নেসো ফ্যারিংসের দিকে পাঠান, তৎক্ষণাৎ অক্সিজেন দিতে শুরু করেন। অ্যালিস ফরশেপ ব্যবহার করে দুজন সহযোগী সাহায্য নিয়ে খেলনা মুখ থেকে বের করেন। শিশু গলা থেকে বের হল ৬ সেন্টিমিটার বাই ৪ সেন্টিমিটারের একটি প্লাস্টিকের খেলনা কচ্ছপ।

চিকিৎসক ডাঃ অর্নব দত্ত বলেন, “মুখে ভিতরে শুধু নয়, গলায় ubula নিচে চলে গিয়ে ছিল খেলনাটা। ফলে শিশুটি নিশ্বাস নিতে পারছিল না। আর কিছুক্ষন দেরি হলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যেত। তবে শিশুটির পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আমরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত হতদরিদ্র পরিবার তারা নিয়ে যেতে পারছে না। তাই আমরা ঝুঁকি নিয়ে সিউড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা করছি।এখন সে বিপদ মুক্ত।”

ছোট শুভমের মা ফুলমনি মুর্মু বলেন, “ছেলেটাকে বাঁচাতে পারব ভাবি নাই। দুমকা হাসপাতাল ঘুরিয়ে দিলো। সিউড়ি হাসপাতালে ডাক্তার বাবু ছেলেটার মুখে ভেতর থেকে খেলনা বার করে দিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ। কাছে ৫০ টাকা আছে। কি করব বুঝতে পারছি না। নার্স দিদিরা ছেলেটার সঙ্গে আমাদেরও খেতে দিচ্ছে।এরাই আমাদের ভগবান।”

চিকিৎসক অর্নব দত্ত বলেন, বিভিন্ন খাবার সামগ্রিক সঙ্গে এখন খেলনা দেওয়া হচ্ছে যা শিশুরা খেলতে খেলতে খাবার জিনিস বলে খেয়ে ফেলছে। এতে কিন্তু প্রানহানীর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।