যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাবা মাকে না দেখলে হবে হাজতবাস

নিজস্ব প্রতিবেদন : বৃদ্ধ বাবা মায়ের প্রতি অত্যাচারের ছবি আমাদের ভারতবর্ষে হামেশায় দেখা যায়, যে ছবি ভারতীয়দের ঐতিহ্যকে আঘাত হানে। পুলিশ অথবা প্রতিবেশীর সহযোগিতায় কোন কোন ক্ষেত্রে সুবিচার মিললেও মনের মনিকোঠায় বাবা মায়ের স্থান কতটা জায়গা পায় সে নিয়েই থাকে প্রশ্ন। সে কারণেই হয়তো বৃদ্ধ বাবা-মাকে বারবার মনের মধ্যেই গাইতে হয়, “ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার…….!”

অচেনা জায়গায় বাবা-মায়ের বৃদ্ধ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসে অনেকেই, অনেকেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য করে অত্যাচার, আবার কখনও কখনও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বোঝা বইতে না চেয়ে তাড়িয়ে দেয় বাড়ি থেকে। যে সন্তানকে ছোট থেকে কোলে পিঠে করে কষ্ট করে আজ বড় করে তুলেছে সেই বাবা-মাকেই বৃদ্ধ বয়সের সন্তানদের অত্যাচারে চোখের জল ফেলতে হয়। তবে এবার আর না! এবার এসব করলেই খেতে হবে জেলের ভাত। এমনই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিহার সরকার।

গতকাল বিহার সরকারের মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোন সন্তান তার বাবা মায়ের প্রতি অত্যাচার করলে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। কোন অজুহাত চলবে না, যেতে হবে জেল। বিহার সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি অত্যাচার কমবে বলেই মনে করছেন অনেকে, সাথে সাথে এমন সিদ্ধান্তকে জানানো হয়েছে অভিনন্দন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এরকমি একটি আইন পাশ করে অসম সরকার। সেই আইনে বলা হয় সরকারি কর্মরত সন্তান তার বাবা-মাকে এবং পরিবারের বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ও অবিবাহিত ভাই-বোনেদের দেখতে বাধ্য। সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো রকম অভিযোগ থাকলে সরকারি সন্তানের মায়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কেটে মা বাবাকে দেবে।

নীতিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তে রীতিমত দেশজুড়ে উঠেছে বাহবা ধ্বনি। অনেকেই মনে করছেন এমন আইন গোটা দেশেই আনা উচিত।