IAS অফিসার হতে চায় মাধ্যমিকে দশম স্থানাধিকারী সিউড়ির অরিত্র

হিমাদ্রি মণ্ডল : সকাল ৯ টায় মাধ্যমিকের রেজাল্ট যখন টিভির পর্দায় ঘটনা হচ্ছে বাড়ির সকলেই চোখ তাকিয়ে ছেলের স্থান অধিকারের আশায়। কিন্তু একের পর এক তালিকা প্রকাশ হলেও ছেলের নাম দেখতে না পেয়ে যখন আশা ছেড়েই দিয়েছেন মা, ঠিক তখনই ১০ নাম্বার তালিকায় উঠে এলো অরিত্র মহারার নাম।

সিউড়ি নেতাজি বিদ্যাভবন থেকে পরীক্ষা দিয়ে এবার অরিত্র মাহারা রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে, জেলায় তৃতীয়। এই স্থান অধিকার করে অরিত্র একসাথে দুটি স্কুলের নাম উজ্জ্বল করল। কেন! এখানেই বিস্ময়কর।

সিউড়ির শুড়িপুকুর পাড়ার বাসিন্দা অরিত্র প্রথম থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে ছিল সিউড়ির পাইকপাড়ার সরস্বতী শিশু মন্দিরে। কিন্তু ওই স্কুলের এবছর প্রথম মাধ্যমিক ব্যাচ কোনো কারণবশত রেজিস্টেশনে সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারপর সে মাধ্যমিকে বসে সিউড়ির নেতাজি বিদ্যাভবন স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। তাই তারা আজ এই সাফল্যে একইসাথে গর্বিত সিউড়ির দুটি স্কুল। আর বলাই বাহুল্য, সিউড়ির পাইক পাড়ার ওই সরস্বতী শিশু মন্দির প্রথম বছরেই ধামাকা দিল।

অরিত্রর বাবা বিমল মাহারা একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, মা চৈতি মাহারা গৃহবধূ। ছেলের এমন সাফল্যে বাড়ির সকলেরই যেমন আনন্দ চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে ঠিক তেমনি তার স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাও সমানভাবে আনন্দিত।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বড় সাফল্য পাওয়ার পর অরিত্র জানাই সে ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হতে চাই। আর তার এই ইচ্ছাই সমান ভাবে সমর্থন রয়েছে বাড়ি অভিভাবক এবং স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

পরীক্ষায় এই বড় সাফল্যের পর অরিত্র জানাই, পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় তার ছিল না। যেদিন যেমন, কখনো তিন ঘন্টা, কখনো ১০ ঘন্টা করে পড়াশোনা করত। তবে তার পড়াশোনার সময় বাবা-মা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে সে কথা তার মুখ থেকেই শোনা যায়। এমন বড় সাফল্যের জন্য অরিত্র যেমন বাবা মায়ের কৃতিত্বকে স্বীকার করেছে, ঠিক তেমনই কৃতিত্ব দিয়েছেন নতুন ও পুরাতন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

প্রসঙ্গত, এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।