‘গাড়ি চালক বাবা’ ছেলে মেয়েদের গরম থেকে বাঁচাতে স্কুলে দিলেন ফ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদন : সামান্য একজন গাড়ি চালক নিজের এবং স্কুলের ছেলে মেয়েদের গরমে দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে স্কুলে দুটি ইলেকট্রিক ফ্যান দিলেন। একজন গাড়ির চালকের দিন আনা দিন খাওয়ার সংসারে এমন মানসিকতা প্রশংসার দাবিদার।

মহঃবাজার ব্লকের ডঃ সুধাকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে চিল্লা গ্রামের বাসিন্দা মানিক ডোম নামে এক ব্যক্তি এমনই কাজ করে সকলের থেকে প্রশংসা কেড়ে নিয়েছে। তিনি পেশায় গাড়ির চালক। বহুদিন ধরে তিনি মহঃবাজার থানার একটি গাড়ি চালান। বাড়িতে ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোটামুটি ভাবেই চলে যায় সংসার।

গত সপ্তাহের শুক্রবার রাতে মেয়ে শ্রাবনী ডোম ও ছেলে গোপীনাথ ডোম বাড়িতে এসে বলে স্কুলের ক্লাস রুমে খুব গরম লাগছে। আমরা স্কুলে থাকতে পারছি না। আর এই কথা শুনেই তাদের বাবা মাণিক বাবু সিদ্ধান্ত নেন স্কুলে দুটি ইলেকট্রিক ফ্যান দেওয়ার। ছেলে মেয়েদের বলেন, শনিবার সকালেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে স্কুলের ক্লাস রুমে দুটি ফ্যান লাগিয়ে দিয়ে আসবেন। সেই মতো শনিবার স্কুল খোলার পরেই তিনি স্কুলে যান তার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে প্রধান শিক্ষককে এবং একটি লিখিত দেন যে তার ছেলেমেয়ে অনুরোধে অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের একটু গরমের হাত থেকে বাঁচতে স্কুলের উন্নতি প্রকল্পের জন্য আমি দুটি ফ্যান দান করতে চাই। তা যেন তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তে সমর্থন করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান দোকানে। তারপর দুটি সিলিং ফ্যান কিনে নিয়ে এসে লাগিয়ে দেন অষ্টম শ্রেণীর ক্লাস রুমে।

মানিকবাবু বলেন, “আজ যেমন আমার ছেলেমেয়ের কষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনি গোটা ক্লাসের সকলেরই কষ্ট হচ্ছে। তাই আমি এই গরমের হাত থেকে ওদের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্য দুটি ফ্যান লাগিয়ে  দিলাম ক্লাস রুমে।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক ঘোষ বলেন, “মানিকবাবু একজন গাড়িচালক হয়েও আজ যে মানসিকতার পরিচয় দিলেন তাতে আমরা খুব খুশি এবং উনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।”

প্রসঙ্গত, স্কুলের প্রতিটি ক্লাসরুমেই ফ্যান লাগানো থাকলেও ছেলে মেয়েদের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। একটি ক্লাস রুমে দুটো থেকে তিনটি ফ্যান রয়েছে। যার সাহায্যে গোটা ক্লাস রুমের মধ্যে ফ্যানের হাওয়া পাওয়াটা সম্ভব হয় না।