বীরভূমের গর্ব লেটো সম্রাট হরকুমার গুপ্ত, সম্মানিত নটরাজ বন্দনায়

সংস্কার ভারতীর  ‘নটরাজ বন্দনা’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত লেটো সম্রাট হরকুমার গুপ্ত। 
   
শ্রীগুরু পূর্ণিমা তিথিকে শিল্পী সম্মাননা দিবস হিসাবে উৎযাপন করলো সংস্কার ভারতী সিউড়ি শাখা। শনিবার বিকালে সিউড়ি শিক্ষক ভবনে “নটরাজ বন্দনা” শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কৃতির আদি গুরু নটরাজ বন্দনায় অংশ নেয় শাখার সদস্যরা। সংগীত, নৃত্য, কবিতায় সাংস্কৃতিক অর্ঘ্য নিবেদিত হয়। অনুষ্ঠানে নটরাজ প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন বিশিষ্ট অতিথি বর্গ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন লেটোসম্রাট হরকুমার গুপ্ত, সভানেত্রী স্বপ্না চক্রবর্তী বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব মানস চক্রবর্তী প্রমুখরা। গত ১৫ বছর ধরে এই শ্রীগুরু পূর্নিমা তিথিকে সামনে রেখে প্রচারের আলোয় না থেকেও শিল্প ক্ষেত্রে যারা নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এমন বাক্তিত্বদের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে লেটোসম্রাট  হরকুমার গুপ্তকে সম্মাননা জ্ঞাপন করল সংস্কার ভারতী।

প্রবীণ লেটোশিল্পী হরকুমার গুপ্ত আজীবন জড়িয়ে আছেন লেটো গানের সঙ্গে। বাঁচিয়ে রেখেছেন মাটির গন্ধ মাখা এই লোক সংস্কৃতিকে। সেই লেটোগুরু হরকুমার গুপ্তের হাতে মানপত্র ও উপহার তুলে দেন স্বপ্না চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, “যে সমস্ত প্রতিভাধর শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সেই শিল্প কলায় উদ্বুদ্ধ করছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে শ্রদ্ধা জানানই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে নীরবে কাজ করে চলেছেন হরকুমার গুপ্ত। তাই এহেন শিল্পীকে সন্মাননা জানিয়ে আমরা ধন্য হলাম। ”

সম্মাননা পেয়ে শিল্পী হরকুমার গুপ্ত বলেন, “দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে লেটো জগতের সঙ্গে যুক্ত আছি। হারিয়ে যেতে বসা লেটো গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে এখনও নিয়মিত ক্লাস করি। নিজে অভিনয় করেছি। জেলায় ভিন রাজ্যে লেটো গান করেছি। তবে সংস্কার ভারতীর এই সম্মান আমার কাছে পরম প্রাপ্তি।”
      
নটরাজ বন্দনা অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত ভাষন দেন সুদীপ কুমার চট্টোপাধ্যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শুভঙ্কর দত্ত। রাষ্ট্র বন্দনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।