মানবিকতার অনন্য নজির : মুরগির ছানাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা ওই ছোট্ট শিশুর পুরস্কৃত

নিজস্ব প্রতিবেদন : সাইকেল চালাতে গিয়ে প্রতিবেশীর মুরগির বাচ্চাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ছিল সে। তারপর কোন কিছু না ভেবেই এই মুরগি ছানাকে তুলে নিয়ে গেছিল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য। তার কাছে যেটুকু অর্থ ছিল সেই অর্থ দিয়েই চিকিৎসার আর্জি জানিয়েছিল হাসপাতালে।

ছোট্ট ওই মিজো শিশুর এমন কান্ড কারখানা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর চমকে দেয় গোটা দেশকে, মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটি।

পথদুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে পথ চলতি সাধারণ মানুষেরা বেশিরভাগ সময় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এখানে মানবিকতার অভাব বলাটা ভুল হবে, ব্যস্ত জীবনে ঝামেলা এড়াতে এমনটাই করেন বেশিরভাগ মানুষ।

কিন্তু সেই ভীতু অথবা ঝামেলাকে এড়িয়ে চলার মত মানুষদের মধ্যে পড়ে না এই ছোট্ট শিশুটি। মিজোরামের এই ছোট্ট শিশু। সে জানে কিভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে হয়। সম্প্রতি এমনই একটি পোস্ট ফেসবুকে করেন এক ব্যক্তি, আর তার পরেই সেই পোষ্টটি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ একটাই, ছোট্ট ঐ শিশুটির মানবিকতা এবং দায়িত্ব হার মানিয়েছে গুরুজনদের।

সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় তার সাইকেলে ধাক্কা লাগে একটি ছোট্ট মুরগির ছানার। আহত ওই ছানাটাকে সে রাস্তায় ফেলে কাপুরুষের মত পালিয়ে যায় নি। বরং তাকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়ে গিয়েছে হাসপাতালে। তার কাছে থাকা সমস্ত টাকা দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে চিকিৎসার আর্জি।

তারপর জানা গিয়েছে, ২৪ ঘন্টা পেরোতে না পেরোতেই ওই ছোট্ট শিশু তার মানবিকতার পুরস্কার পেয়ে গেল। মিজোরামের সাইরাংয়ের ছোট্ট ওই শিশু ডেরেক সি লালছানহিমাকে পুরস্কৃত করল তার স্কুল। দেওয়া হয়েছে একটি শংসাপত্র। লেখা আছে ‘ওয়ার্ড অফ অ্যাপ্রিশিয়েসন’। শংসাপত্রের সেই ছবি পোস্ট করার পর সেটিও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়।

বর্তমান পৃথিবীতে হাজারো অমানবিকতার ছবির মাঝে এমন মানবিকতার উদাহরণ ডেরেক সকলের সামনে তুলে ধরে টাটকা বাতাসের মত। তার শিশু মনের পবিত্রতা সকলের কাছে প্রশংসা পেয়েছিল, আর সেই প্রশংসার পুরস্কারও জুটে গেল এবার।