দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও মাধ্যমিকে নজরকাড়া রেজাল্ট করে নয়নের মনি বোমভোলা

নিজস্ব প্রতিবেদন : জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম সিউড়ি অরবিন্দ ইনস্টিটিউট ফর সাইটলেস বিদ্যালয়ের ছাত্র বোমভোলা কৈবর্ত। নিজে পৃথিবীর রঙ আর আলো দেখতে না পেলেও মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করে পরিবারকে দেখাচ্ছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং অদম্য চেষ্টাকে মূল মন্ত্র করে সে আজ মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করে প্রমান করল শারীরিক অক্ষমতা মানুষের দুর্বলতার কারণ হতে পারে না। কলা বিভাগ থেকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৭২, যা রীতিমত টক্কর দেয় অন্যান্য সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের। বোমভোলা মাধ্যমিকে এত ভালো রেজাল্ট করে স্বপ্ন দেখছে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার। আগামীদিনে সে বাংলা নিয়ে পড়াশুনা করতে চায়।

ফলাফল প্রসঙ্গে বোমোভোলা বলে, “আমি সারাদিনে নিয়ম মেনে ৮ ঘন্টা করে পড়াশুনা করতাম। আমি ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক হতে চায়।”

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

বোমভোলা দৃষ্টিহীন হওয়ায় জীবনের প্রতিটি পদে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা চলার পথে বাঁধার সৃষ্টি করলেও পড়াশুনার প্রতি ভালোবাসা এবং আগ্রহ তাদের সেই শারীরিক বাঁধাকে হার মানিয়েছে। বোমভোলার প্রাপ্ত নাম্বার বাংলায় ৯৫, ইংরাজিতে ৯১, অঙ্কে ৯২, ভৌত বিজ্ঞানে ৮০, জীবন বিজ্ঞানে ৬১, ইতিহাসে ৭৩ এবং ভূগোলে ৮০।

বোমভোলা যদিও সিউড়ি অরবিন্দ ইনস্টিটিউট ফর সাইটলেস বিদ্যালয়ের ছাত্র, কিন্তু তার আদি বাড়ি পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরের দূরমুট গ্রামে। বাবা পেশায় একজন সাধারণ চাষী। সুতরাং তার পড়াশোনার পিছনে শুধু শারীরিক বিশেষ সক্ষমতায় বাধা নয়, বাধা আর্থিক স্বচ্ছলতাও। তবে সেসবকে জয় করে সে আজ সকলের নয়নের মণি।

বোমভোলা চার বছর আগে সিউড়ির ওই স্কুলে পড়াশুনা শুরু করে। সে এবছর সিউড়ি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ স্কুল অধিনে রেজিস্ট্রেশন করে পরিক্ষায় বসে। তবে পড়াশুনার সমস্ত দেখভালের দায়িত্ব ছিল অরবিন্দ ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের। বোমভোলার ভালো ফলাফলের বিষয়ে স্কুলের শিক্ষকরা জানান, প্রথম থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ আমাদের মধ্যেও একটা আশার সঞ্চার করেছিল ভালো ফলাফলের। সেই আশাটি বাস্তবায়িত করলো আজ বোমভোলা।