দণ্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মন্ডলকে নিয়ে এসএসকেএমের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদন : বেশ কয়েক বছর ধরে ফিশচুলা রোগে ভুগছিলেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু যে নেতার মুখে বারবার বিতর্কিত মন্তব্য, বিতর্কিত নিদান উঠে আসে সেই নেতা অপারেশনের পথে হাঁটেননি এতদিন। কিন্তু পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছিল, ছটি মুখ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ৫ ই জুলাই তাঁকে ভর্তি হতে হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। তারপর বুধবার হয় তাঁর অস্ত্রোপচার।

Source

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের এই দণ্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে প্রথম থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বড় সংশয় ছিল, কারণ যেভাবে তিনি ভোটের আগে বীরভূম তথা অন্যান্য জেলায় গুড় বাতাসা, নকুলদানা, পাঁচন, সলাকার মতো দাওয়াই দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এনিয়েই সংশয়!

Source

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং অস্ত্রপ্রচার নিয়ে ভীত অনুব্রত মণ্ডল এসএসকেএমে ভর্তি হন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শুধু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নয়, ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার উপর চলছে ২৪ ঘন্টা নজরদারী। আর সেই নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক।

অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে চিকিৎসক এবং নার্সদের সমস্ত রকম সংশয় দূর হয়ে যায় যখন তিনি হাসপাতালে আসেন। নার্স থেকে চিকিৎসক সকলেই বলছেন, অনুব্রত মণ্ডল নাকি ইনজেকশন নিতে ভয়ে কুঁকড়ে যান। আর অপারেশনের কথা শুনলে ভগবানের নাম করেন। অর্থাৎ যে অনুব্রত মণ্ডল বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিতর্কিত নিদানের জন্য রাজ্য সেরা নেতা, সেই কিনা ছুরি-কাঁচির কথা শুনলে ভয় পান।

Source

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংশয় ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ায় শুধু নয়, চিকিৎসক এবং নার্সদের কাছে বড়ই প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাদের বক্তব্য অনুসারে, বাস্তবে এই অনুব্রত মণ্ডল খুব নরম প্রকৃতির। অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন চিকিৎসকদের নির্দেশ এবং পরামর্শ। অস্ত্রোপচারের পর ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্যদের কলকাতার বিখ্যাত মিষ্টির দোকানের মিষ্টিই খাইয়েছেন তিনি।

ফিশচুলা অপারেশনের পর ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। পর্যবেক্ষণে আপাতত সুস্থই রয়েছেন তিনি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ছেড়েও দেওয়া হতে পারে তাঁকে।