জাগ্রত ইন্দ্রগাছা বামাকালী, দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ভক্তরা

পার্থ দাস : দীপান্বিতা অমাবস্যায় চারদিকে কালী আরাধনায় মাতবেন ভক্তরা। তবে এই সকল কালীপুজোর মধ্যে কিছু কালীপুজো রয়েছে যা বছরের পর বছর ধরে ভক্তদের কাছে জাগ্রত কালীপুজো হিসাবেই পরিগণিত হয়ে আসছে। বছরের পর বছর ধরে জাগ্রত এই সকল কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ইন্দ্রগাছা গ্রামের বামাকালী। গ্রামের নাম ইন্দ্রগাছা থেকেই এই বামা কালীর নাম হয়েছে। যদিও চলতি ভাষায় এই গ্রামকে বলা হয় ইনগাছা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরকুনার গভীর জঙ্গলে সাধনা করতে গিয়ে মায়ের সাক্ষাৎ পান সাধক রামকানাই। মায়ের জীবন্ত সাক্ষাৎ সেই রূপ তিনি থালায় এঁকে নেন। জীবন্ত মায়ের সেই রূপের ছবি দেখে বানানো হয় মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি। এছাড়াও তিনি পুজোর জন্য একটি প্রার্থনা মন্ত্র লিখেছিলেন। সেই মন্ত্র রামকানাইয়ের পুঁথি হিসেবে পরিচিত। যে থালায় মায়ের জীবন্ত রূপ দেখে ছবি এঁকেছিলেন সে থালা বহু গোপনে সযত্নে রেখে দিয়েছে ইন্দ্রগাছা গ্ৰামের বাসিন্দারা।

এখানে প্রতিবছর যে মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি করা হয় তার উচ্চতা হয় আনুমানিক ২২ ফুট। মূল মন্দির থেকে সামান্য দূরে গঠন মন্দিরে দুর্গাপুজোর পর ত্রয়োদশীর দিন থেকে প্রতিমা তৈরি করার কাজ শুরু হয়ে যায়। প্রতিমার গায়ে রং দেওয়ার কাজ শুরু হয় কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ বারের দিন থেকে। তবে চক্ষুদান হয় সবার শেষে অলংকার এবং অন্যান্য সব কাজ হয়ে যাওয়ার পর অমাবস্যার মধ্যরাতে।

বিশাল এই মৃন্ময়ী মূর্তি পূজোর দিন মধ্যরাতে গঠনমন্দির থেকে মূল মন্দিরে আনা হয় কাঁধে করে। ৫০-৬০ জনের বেশি মানুষ শাল কাঠের উপর চাপিয়ে ইন্দ্রগাছা বামা কালীকে মূল মন্দিরে নিয়ে আসেন। মূল মন্দিরে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে মশাল জ্বালানো, নিজস্ব ঢাকের বোল এবং কিছু গান রয়েছে যেগুলি করতে হয়।

গঠন মন্দির থেকে মূল মন্দিরে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। শাল কাঠের মধ্য দিয়ে গঠন মন্দির থেকে মাকে তুলে নেওয়ার পর চোখের পলকে মূল মন্দিরে আসতে দেখা যায়।