পুরীর রথযাত্রার চারটি বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোথাও নেই

নিজস্ব প্রতিবেদন : ভারতের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বিশ্বের একাধিক জায়গাতেও রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য জায়গার রথযাত্রার হলেও বিশ্বের অধিকাংশ মানুষেরই নজর থাকে পুরীর রথযাত্রার দিকে। ঐতিহ্য এবং নানান ঘটনা পুরীর রথযাত্রাকে নজর কাড়ে বছরের পর বছর ধরে। এই রথযাত্রার অজানা কয়েকটি কাহিনী আপনাদের জন্য।

১) পুরীর রথযাত্রায় মোট তিনটি রথ বের করা হয়। এই তিনটি রথের আলাদা আলাদাভাবে চড়েন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা। তিনটি রথের আলাদা আলাদা নামও রয়েছে। জগন্নাথ দেব যে রথে চড়েন তার নাম হলো নন্দীঘোষ রথ। বলরাম যে রথে চড়েন তার নাম তালধ্বজ রথ এবং সুভদ্রার রথের নাম দেবদলনা রথ।

২) পরম্পরা অনুযায়ী পুরীর রথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ কাঠের। ফাসি, ভাউনরা, আসানা এই তিন ধরনের কাঠ রথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন হয়। এই সকল বিশেষ কাঠের তৈরি হয় জগন্নাথ দেবের রথ। কথিত আছে, এই রথ নির্মাণের জন্য ১১০০ টি বড় কাঠের প্রয়োজন হয়ে থাকে। যা ১২ ধরনের কাঠ থেকে আসে। সেই সকল কাঠ থেকে ৮৬৫টি ৮ ফুটের বেছে নেওয়া হয়।

৩) পুরীর রথ নির্মাণের জন্য এই বিশাল পরিমাণ কাঠ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে ওড়িশা সরকার, এমনটাই জানা যায়। রথ নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেই কাঠের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে যাওয়া হয় পাকশালায়। সেখানে সেই কাঠ দিয়ে কাঠের চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে রান্না করা হয় জগন্নাথ দেবের প্রসাদ। যে প্রসাদ কোনদিনও অভুক্ত রাখেনি কোন ভক্তকে। আবার এই প্রসাদ কোনদিন নষ্টও হয় না।

৪) রথ যাত্রার আগে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে ২০৮ কেজি সোনার গয়না পরানো হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুরীর মন্দিরের দেবদেবীদের মূর্তি নিখুঁত আকারে পুনর্নির্মাণ করা হয়। তারপর পালন করা হয় নবকলেবর।