লকডাউনে দেখে নিন ঋষি কাপুরের সর্বকালের সেরা ১০টি সিনেমা

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এমন ১০টি সর্বকালের সেরা ছবি, যেগুলির মাধ্যমে ঋষি কাপুর নিজের ছাপ রেখে গেছেন ভারতীয় সিনেমা জগতে।

নিজস্ব প্রতিবেদন : আবারও নক্ষত্র পতন ভারতীয় সিনেমা জগতে। গতকাল ইরফান খানের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ঋষি কাপুর। ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এ যেন কালো দিন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এমন ১০টি সর্বকালের সেরা ছবি, যেগুলির মাধ্যমে ঋষি কাপুর নিজের ছাপ রেখে গেছেন ভারতীয় সিনেমা জগতে।

১) কর্জ : ১৯৮০ সালে রিলিজ হয়। সুভাষ ঘাই পরিচালিত ঋষি কাপুর ও টিনা মুনিম অভিনীত ছবি কর্জ বলিউডে একটি মাইলস্টোন।

গল্প: পুনর্জন্মের বিশ্বাসের উপর গড়ে ওঠা এই ছবির গল্প ঋষি কাপুর অর্থাৎ অন স্ক্রিন মন্টি’র চরিত্রকে কেন্দ্র করে, যাকে পূর্ব জন্মে বিয়ের পর তার স্ত্রী হত্যা করেছিল। বর্তমান জন্মে একজন গায়ক মন্টি উটিতে গিয়ে পূর্ব জন্মের স্মৃতিতে ফিরে পান এবং তখনই পূর্বজন্মের তার পরিবার এবং তার হত্যাকারী স্ত্রী কামিনীর খোঁজ শুরু করে। তারপরে কি হয়, এই নিয়েই গল্পের ক্লাইম্যাক্স।

২) প্রেম রোগ : ১৯৮২ সালে রিলিজ হওয়া ছবি প্রেম রোগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মন জয় করেছে। রাজ কাপুর পরিচালিত, ঋষি কাপুর এবং পদ্মিনী কোলাপুরি অভিনীত এই ছবি চারটি ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার জেতে।

গল্প – ছবিতে পদ্মিনী কোলাপুরি অর্থাৎ মনোরমা এবং তার ছোটবেলার বন্ধু দেওদার অর্থাৎ ঋষি কাপুরের প্রেম কাহিনী তুলে ধরা হয়। ঋষি কাপুরের তার প্রতি অনুভূতিগুলি না বুঝেই মনোরমা অন্য একজনকে বিয়ে করে নেয়। কিন্তু যখন তার কপালে দুর্ভাগ্য নেমে আসে। তখন দেওদার তাকে কিভাবে সেখান থেকে বার করে আনে, সেই ঘটনার উপরই ছবিটি তৈরি হয়।

৩) ববি: ১৯৭৩ সালে রিলিজ হওয়া রাজ কাপুর পরিচালিত ছবি ববি এমন একটা ছবি যার নাম সবারই বড্ড চেনা। ঋষি কাপুর এবং ডিম্পল কাপাডিয়া অভিনীত এই ছবি সেই বছর ৫টি পুরষ্কার জেতে।

গল্প – সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে গড়ে ওঠা একটা ভালোবাসার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়। গল্পে ঋষি কাপুর অর্থাৎ রাজ একজন হিন্দু, প্রতিষ্ঠাবান পরিবারের ছেলে যে নিম্নবিত্ত খ্রিস্টান বাড়ির মেয়ে ববির প্রেমে পড়ে।

৪) সাগর: ১৯৮৫ তে রিলিজ, রমেশ সিপ্পি পরিচালিত এবং ঋষি কাপুর, ডিম্পল কাপাডিয়া এবং কমল হাসান অভিনীত ছবি সাগর সেই বছরে ৬টি পুরষ্কার নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছিল।

গল্প – ত্রিকোণ প্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া এই গল্পে গরীব মৎস চাষী রাজা (কমল হাসান) মোনা অর্থাৎ ডিম্পল কাপাডিয়ার প্রেমে পড়ে কিন্তু অন্যদিকে মোনা বড়োলোক বাড়ির ছেলে রবি অর্থাৎ ঋষি কাপুরকে ভালোবেসে ফেলে। তারপর তাদের জীবন কোনদিকে যায় এই নিয়েই সম্পূর্ণ সিনেমা তৈরি হয়।

৫) অমর আকবর অ্যান্টনি: ১৯৭৭ সালে রিলিজ হওয়া মনমোহন দেসাই পরিচালিত এই ছবিতে একসাথে অভিনয় করেন অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর এবং বিনোদ খান্না। পরবর্তীকালে এই ছবিটি হিন্দি সিনেমার একটি মাইলস্টোনে পরিণত হয়। সেই বছর তিনটি পুরষ্কার জেতে এই ছবিটি।

গল্প – তিনজন ভাই যারা কোনো কারণবশত ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যায় এবং পরবর্তীকালে একজন হিন্দু, একজন মুসলিম এবং একজন খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে ওঠে। তাদের জীবনের নানারকম রোমাঞ্চ, প্রেম সব নিয়েই সিনেমার গল্প।

৬) দামিনী: ১৯৯৩ সালে রিলিজ হওয়া এই ছবিটি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার থাকেনা। যদিও রাজকুমার সন্তোশি পরিচালিত এই ছবিটি সেই বছরে ৫টি পুরষ্কার জিতে নেয়। ছবির মুখ্য চরিত্রে ছিলেন মীনাক্ষী শেশাদ্রি, ঋষি কাপুর এবং তাদের সাথে স্ক্রিন ভাগ করে নেন সানি দেওল।

গল্প – নারী অধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পে দামিনী ঋষি কাপুরের সাথে বিয়ের পর নিজের বাড়িতেই অন্য একটি নারীর ধর্ষন হতে দেখে ফেলে। তারপর সত্য এবং ন্যায় এর জন্য তার লড়াই এবং স্বামী ঋষি কাপুরের সাথে তার সম্পর্কের ওঠাপরা, এই নিয়েই গড়ে ওঠে সিনেমার প্লট।

৭) ইয়ে ওয়াদা রাহা: ১৯৮২ সালে রিলিজ হওয়া কপিল কাপুর পরিচালিত এই ছবিতে একই স্ক্রিনে অভিনয় করেন ঋষি কাপুর, পুনাম ধিলন, শাম্মী কাপুর, টিনা মুনিম এবং রাখি গুলজার।

গল্প – এই গল্পের ভীত প্রেমকাহিনী। সুনিতা এবং বিক্রম কাশ্মীরে প্রেমে পড়ার পর বিক্রম সুমিতাকে নিজের মায়ের সাথে পরিচয় করাতে নিয়ে গেলে সুনিতার পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে মেনে নিতে অস্বীকার করে। এরপর কিভাবে তাদের জীবন এগোয় সেই নিয়েই সম্পূর্ণ ছবি।

৮) চাঁদনি: ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত ছবি চাঁদনি হিন্দি সিনেমার আরও একটি মাইলস্টোন যা পরিচালনা করেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক ইয়াশ চোপড়া। ছবিতে একসাথে স্ক্রিন ভাগ করেছিলেন শ্রীদেবী এবং ঋষি কাপুর। সাথেই ছিলেন বিনোদ খান্না, ওয়াহিদা রেহমান, অনুপম খের’র মত অভিনেতারা। সেই বছর দুটি পুরষ্কার পায় এই ছবি।

গল্প – এই সিনেমার ভিত্তিও প্রেমকাহিনী যেখানে রোহিত অর্থাৎ ঋষি কাপুর চাঁদনীর অর্থাৎ শ্রীদেবীর জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর চাঁদনীর বন্ধু হয়ে ওঠে লালিত অর্থাৎ বিনোদ খান্না। পরবর্তীতে রোহিতের ফিরে আসায় তাদের জীবন কি মোড় নেয় তার ওপরই ছবির গল্প।

৯) দিওয়ানা: ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি দিওয়ানা ভারতীয় সিনেমা জগতে ইতিহাস তৈরী করে। রাজ কানোয়ার পরিচালিত এই ছবিতে একই স্ক্রিনে অভিনীত করেছিলেন ঋষি কাপুর, দিব্যা ভারতী এবং শাহরুখ খান। এই ছবির মধ্যে দিয়েই আজকের কিং খানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই বছর ৪টি পুরষ্কার জিতেছিল এই ছবি।

গল্প – গায়ক ঋষি কাপুর তার সবথেকে বড় ভক্ত দিব্যা ভারতীকে বিয়ে করে কিন্তু বিয়ের পর ঋষি কাপুর তার কাকার সম্পত্তি লোভে তৈরি করা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। মারা না গেলেও পরিস্থিতির চাপে তাকে মৃত মেনে নেয় সকলে। ঋষি কাপুরের মৃত্যুর খবর আসার পর বিধবা দিব্যা ভারতী ভেঙে পড়লেও সেই সময় তার জীবনে আসে শাহরুখ খান যে তার প্রেমে পড়ে এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। বিয়ের পর ঋষি কাপুর আবার তাদের জীবনে ফিরে আসে, তারপর? সেই নিয়েই গল্প।

১০) ডি ডে: ২০১৩ সালে প্রকাশ পাওয়া এই ছবিতেই একই স্ক্রিনে কাজ করেছিলেন ঋষি কাপুর এবং ইরফান খান। তাদের সাথে স্ক্রিন ভাগ করে নেন অর্জুন রামপাল। ছবির পরিচালনা করেছিলেন নিখিল আডবাণী। সেই বছর ৫টি পুরষ্কার জিতেছিল এই ছবি।

গল্প – বিশেষজ্ঞদের একটি দল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড মানুষকে ধরার টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করে। মিশন চলাকালীন রহস্য রোমাঞ্চ ও নানান ওঠাপড়া নিয়ে তৈরি এই সিনেমা অ্যাকসন থ্রিলার।