The British government has increased the cost of visas: আপনি কি উচ্চশিক্ষার জন্য ব্রিটেনে যেতে চান? বহু ভারতীয়র স্বপ্ন এবার ভেঙে যেতে পারে এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভিসার খরচ বাড়ানোর (Expensive Visa Fee) সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋষি সুনক সরকার। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ব্রিটেন ভ্রমণ ও পড়াশোনা করা অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছয় মাসের ভিজিট ভিসার ফি ১৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৯৫ পাউন্ডে উন্নীত করা হয়েছে(Expensive Visa Fee)। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৫,০০০ টাকা। স্টুডেন্ট ভিসার ফি ১২৭ পাউন্ড বাড়িয়ে ৭৭২ পাউন্ডে উন্নীত করা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৩০,০০০ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে অক্সফোর্ড-কেমব্রিজসহ ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠবে। এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। ভিসার খরচ বাড়ায় এই খরচ আরও বেড়ে যাবে।
ভিসার খরচ বাড়ানোর (Expensive Visa Fee) বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, ছ’মাস বা তার কমের ভিজিট ভিসার খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫ ব্রিটিশ পাউন্ড। পাশাপাশি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য দিতে হবে ৪৯০ পাউন্ড। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ভিজিট ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা। ব্রিটেনে বসবাসকারী ব্যক্তিরা যদি ভিসার মেয়াদ বাড়াতে চান তাহলেও সম পরিমাণ অর্থ দিতে হবে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্রিটেনে ভিসা আবেদনকারীদের ফি ছাড়াও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একটি সারচার্জ দিতে হয়। সারচার্জের টাকা সরাসরি সরকার পরিচালিত ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তহবিলে চলে যায়। ফি ও সারচার্জ দুটোই বাড়ানো হবে বলে মন্তব্য করেন ব্রিটিশ প্রধনমন্ত্রী। সারচার্জ বাড়লে দেশের কোষাগারে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ বাড়বে এটাই দাবি ব্রিটিশ সরকারের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ওয়ার্ক ও ভিজিট ভিসার খরচ ১৫ শতাংশ এবং প্রায়োরিটি ও স্টুডেন্ট ভিসার খরচ ২০ শতাংশ বাড়তে চলেছে (Expensive Visa Fee) ।
ভিসার খরচ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেন-ভারত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের অনেক শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী ব্রিটেন ভ্রমণ ও ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ভিসার খরচ বাড়ায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। ভিসার খরচ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেন সরকারের আয় হয়তো বৃদ্ধি পাবে কিন্তু ব্রিটেন-বিশ্বের অন্যান্য দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।