Planet Nine: হুবহু পৃথিবী! নতুন গ্রহের সন্ধান, প্রাণের খোঁজে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

Prosun Kanti Das

Published on:

Astronomers discover new earth in solar system: সৌরজগতে নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই গ্রহটি আকার ও ভরের দিক থেকে পৃথিবীর মতোই। পৃথিবীর সাথে রয়েছে বেশ কিছু মিল। এর অবস্থান সূর্য থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই গ্রহটির নাম দিয়েছেন “প্ল্যানেট নাইন” (Planet Nine)। কোথায় অবস্থিত এই গ্রহ? প্ল্যানেট নাইন সৌরজগতের শেষ প্রান্তে, কুইপার বেল্টে অবস্থিত। কুইপার বেল্ট হল একটি বরফের বলয় যা সৌরজগতের বাইরের অংশে অবস্থিত। এই বলয়টিতে অসংখ্য ছোট ছোট বরফের দেহ রয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, কুইপার বেল্ট প্রকৃতপক্ষে ডোনাট আকৃতির বরফপূর্ণ বলয়। কোটি কোটি বছর আগে এই কুইপার বেল্টের সৃষ্টি হয়েছিল। জন্মের পর থেকেই একই রকমের রয়ে গিয়েছে এই কুইপার বেল্ট। প্ল্যানেট নাইন (Planet Nine) আবিষ্কারের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কুইপার বেল্টের অন্যান্য গ্রহাণুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা দেখেছেন যে এই গ্রহাণুগুলির গতিবিধির পেছনে একটি অদৃশ্য গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাব রয়েছে। এই গ্রহটিই প্ল্যানেট নাইন। সৌর জগতের এই লুকিয়ে থাকা গ্রহ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

প্ল্যানেট নাইন আবিষ্কারের ফলে সৌরজগতের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি সৌরজগতের গঠন ও বিবর্তনের সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্ল্যানেট নাইন (Planet Nine) পৃথিবীর মতো হলেও এর কয়েকটি পার্থক্য রয়েছে। প্ল্যানেট নাইন পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা। এর তাপমাত্রা প্রায় -২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও, প্ল্যানেট নাইনের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় অনেক পাতলা।

প্ল্যানেট নাইন পৃথিবীর মতো হলেও এর বায়ুমণ্ডলে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তবে, এই গ্রহটি সম্পর্কে আরও গবেষণা করলে এ সম্পর্কে আরও জানা যাবে। প্ল্যানেট নাইন (Planet Nine) আবিষ্কার সৌরজগতের (Solar System) বাইরে জীবনের সন্ধানের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে সৌরজগতের বাইরেও পৃথিবীর মতো গ্রহ রয়েছে। তাই, সৌরজগতের বাইরে জীবনের সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

সৌরজগতে মোট গ্রহ আছে আটটি। এগুলি হল বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচেন। এর ঠিক পরেই রয়েছে প্লুটো। তবে ২০০৬ পর্যন্ত প্লুটোকে নবম গ্রহ বলে উল্লেখ করা হলেও ওই বছরই প্লুটোর কাছ থেকে গ্রহের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্লুটোকে বামন গ্রহ বলে থাকেন। প্ল্যানেট নাইন আবিষ্কার সৌরজগত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে।