The story of B R Shetty, the owner of crores of rupees, who became poor in an instant is a warning to all Businessmen: চূড়ান্ত দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে বড় হওয়ার পরও, এক সময় হয়ে উঠেছেন কোটিপতি এমন ঘটনা আমরা অনেক শুনেছি। এই গল্পগুলো আমাদের কাছে অনেকটা রূপকথার মতো মনে হয়। নিজের জীবনে এগিয়ে যাবার পথে অনুপ্রেরণা জোগায় এই সমস্ত ঘটনা। এর ঠিক বিপরীত ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। অর্থাৎ কোটিপতি থেকে একেবারে কপর্দক শূন্য হওয়ার নিদর্শনও রয়েছে বেশ কিছু। কিন্তু আজ এমন একজনের গল্প বলব যিনি (B. R. Shetty) একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে পৌছে গেছিলেন সর্বোচ্চ স্তরে। আবার হঠাৎই নেমে এসেছেন একেবারে শুণ্যে।
কথা হচ্ছে কর্পোরেট দুনিয়ার রঘুরাম শেট্টি ওরফে বি আর শেট্টির (B R Shetty) ব্যাপারে। তিনি দরিদ্র থেকে ধনবান হয়েছিলেন এবং এক ধাক্কায় আবার দরিদ্র হয়ে গিয়েছেন। বি আর শেট্টি ভারত থেকে গালফে পাড়ি দিয়েছিলেন মাত্র ৬৬৫ টাকা সাথে নিয়ে। সেখানে গিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তাঁর। নিজের কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ১৮ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি তৈরি করেন নিজের নামে। বি আর শেট্টির সংস্থা এনএমসি হেল্থ ফুলে ফেটে ওঠে সেই সময়।
সেই সময় আরবে একমাত্র বেসরকারি হেল্থ অপারেটর হিসেবে জায়গা করে নেয় এনএমসি হেল্থ। নিজের সম্পত্তি জাহির করতে খুব ভালবাসতেন তিনি। একেবারে রাজারহালের জীবনযাপন করছিলেন তিনি। তার নিজস্ব সংগ্রহে বেশ কয়েকটি দামি মডেলের গাড়ি ছাড়াও ছিল নিজস্ব একটি বিমান। এমনকি আরবের বিখ্যাত বিল্ডিং বুর্জ খালিফার গোটা দুটো ফ্লোর তিনি কিনে রেখেছিলেন যার দাম ছিল ২০৭ কোটি টাকা।
এছাড়াও দুবাইয়ের পাম জুমেরা এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারেও তার সম্পত্তি রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল কিন্তু ২০১৯ সালে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে চলতে থাকে তার জীবন। ২০১৯ সালে বি আর শেট্টির নামে টুইটারে অভিযোগ করে ব্রিটিশ বিনিয়োগ গবেষণা ফার্মের প্রধান। মাডি ওয়াটারসের প্রধান কারসেন ব্লক বেশ গুরুতর একটি অভিযোগ আনেন সোশ্যাল মিডিয়ায় বি আর শেট্টির বিরুদ্ধ। এর ফলে পুরো ব্যবসায়িক মহলই নড়েচড়ে বসে। মাদি ওয়াটারসের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় বি আর শেট্টি (B R Shetty) তার আর্থিক লেনদেনকে ঋণগ্রস্থ না দেখানোর জন্য অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। এরপর এনএমসি হেল্থের শেয়ারের দাম দ্রুতগতিতে কমতে থাকে। ফলে বি আর শেট্টির সম্পূর্ণ ব্যবসা প্রায় তছনছ হয়ে যায় এক মুহূর্তেই।
এই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে সরকারের তরফ থেকে তদন্ত করা হয়। তদন্তে প্রমাণ হয় যে, বি আর শেট্টির (B R Shetty) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ একেবারেই সত্যি। তিনি সত্যিই উপযুক্ত কর মেটাননি। শেয়ারের দাম কমতে থাকায় ক্যাপিটাল কমতে থাকে তরতরিয়ে। ফলত সে তার ১২৪৭৮ কোটি টাকার ব্যবসা মাত্র ৭৪ টাকায় বিক্রি করে দিতে হয়। এক মুহূর্তে ভেঙে যায় সম্পূর্ণ রাজ্যপাট। এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। দ্রুত গতিতে চলতে থাকা ব্যবসায় যে কোন সময় পাল্টে যেতে পারে পরিস্থিতি। তাই নিজের ক্রিয়া-কলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা বাধ্যতামূলক।