নিজস্ব প্রতিবেদন : ফুটবল ময়দানে ভারতীয় ফুটবলার হয়ে যারা মাঠ দাপিয়ে বেরিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাইচুং ভুটিয়া (Bhaichung Bhutia)। এমন একজন ফুটবলার খেলার ময়দানে ব্যর্থতার স্বাদ সেই ভাবে না পেলেও ফুটবল জীবনের ক্যারিয়ার শেষ হতেই বারবার পথ চলায় হোঁচট খেতে হচ্ছে। বাইচুং ভুটিয়াকে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে রাজনৈতিক জীবনে (Bhaichung Bhutia Political Journey)।
বাইচুং ভুটিয়া খেলার ময়দান ছেড়ে রাজনৈতিক ময়দানে পা দেওয়ার পর গত ১০ বছরে এখনো পর্যন্ত ৬ বার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এই ৬ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাকে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে, বারবার হেরে তিনি ইতিমধ্যেই হারের ডবল হ্যাটট্রিক করে ফেললেন। এমনকি একইসঙ্গে দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি।
বাইচুং ভুটিয়া প্রথম ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে। সেবার তাকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিয়েছিল। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় চমক দিলেও বাইচুং ভুটিয়া জয় হাসিল করতে পারেননি। ২০১৪ সালে দার্জিলিঙে বিজেপি প্রার্থী এসএস আলুওয়ালিয়ার কাছে তাকে প্রায় দু’লক্ষ ভোটে পরাজিত হতে হয়েছিল।
এরপর আবার বাইচুং ভুটিয়াকে ২০১৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু সেবারও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তাকে ১৪ হাজারের বেশি কিছু ভোটে পরাজিত হতে হয়েছিল সিপিআইএম প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্যের কাছে। বাংলায় শাসকদলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দু’দুবার জয় ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ থাকার পরেও কিন্তু বাইচুং ভুটিয়া হাল ছাড়েননি। তবে এরপর তিনি ফিরে যান সিকিমে।
সিকিমে ফিরে ২০১৮ সালে বাইচুং ভুটিয়া নিজের একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন আর তার নাম দিয়েছিলেন হামরো সিকিম পার্টি। নিজের দলের প্রার্থী হিসেবে ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিজে গ্যাংটক এবং তুমেন লিঙ্গি দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও একটিতেও জয় হাসিল করতে পারেননি। আবার ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে গ্যাংটক থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু সেবারও জয় আসেনি।
এরপর বাইচুং ভুটিয়া ২০২৩ সালে যোগ দেন এসডিএফ পার্টিতে। সিকিমের অন্যতম এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যায় তার হামরো সিকিম পার্টি। এমনকি তিনি এসডিএফ পার্টির এখন সহ-সভাপতি। তবে এই পার্টিতে নিজের দলকে মিশিয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করলেও জয় এলোনা। তিনি এবার সিকিমের বারফুঙ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং এবারও তাকে সিকিম ক্রান্তিকারী পার্টির প্রার্থী রিকশাল দোর্জে ভুটিয়ার কাছে ৪৩৪৬ ভোটে পরাজিত হতে হলো।