দেশে জারি হতে পারে করোনা মোকাবিলায় ম্যাজিকের মত কাজ হওয়া ভিলওয়ারা মডেল

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদন : ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ভারতে করোনা থাবা বসাতে চলেছে তা টের পাওয়া যায়। এরপর মার্চ মাসের শুরুতে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধতে থাকে এই ভাইরাস। ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল কলেজ, নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে অন্যান্য অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উড়ান আর তারপরেই একের পর এক করোনা সংক্রামিত ব্যক্তিদের খোঁজ মেলে ভারতে। রাজস্থানের ছোট শহর ভিলওয়ারাতে ২০ই মার্চ পর্যন্ত যে সংখ্যক করোনা সংক্রামিত ব্যক্তিদের খোঁজ মেলে তাতে এই শহরকে চীনের উহান শহরের সাথে তুলনা করা হচ্ছিল। কিন্তু তারপরেই ঘুরে দাঁড়ায় এই শহর। আর সেই শহরের মডেল জারি হতে পারে গোটা দেশে।

করোনা মোকাবেলায় রাজস্থানের এই ছোট শহর ভিলওয়ারার সাফল্যের কথা স্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবা। ২০ই মার্চ অর্থাৎ যখন আমরা করোনাভাইরাসের টেরই পাইনি সেভাবে তখনই এই শহরের করোনা সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল ১৯। কিন্তু তারপর আর সংখ্যাটা সেভাবে বাড়েনি। বর্তমানে এই শহরে মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ২৭। অর্থাৎ একরকম ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে সংক্রমণকে। প্রশাসনিক দক্ষতায় এমনটা করা সম্ভব হয়েছে। কিভাবে এতটা আয়ত্তে আনা সম্ভব হলো?

ভিলওয়ারারা জেলাশাসক রাজেন্দ্র ভাট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এই শহরে মোট সংক্রামিত সংখ্যা ২৭। যাদের মধ্যে আবার ১৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে মারাও গেছেন দুজন। করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জেলা জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। জেলার প্রতিটি সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়। আর তারপর শহর থেকে গ্রাম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুরু করা হয় পরীক্ষা। ডোর টু ডোর চলে ক্যাম্পেইন। আর এর জন্য তৈরি করা হয়েছিল ১৯৩৭টি মেডিকেল টিম। আর ২২ শে মার্চ থেকে ২ রা এপ্রিল পর্যন্ত এই মাত্র কয়েকটা দিনে ৪.৪১ লক্ষ ঘরে পর্যবেক্ষণ করে ফেলা হয়।

ভিলওয়ারা শহরের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে সার্ভে করে তারা ১৪০০ মানুষকে চিহ্নিত করেন। যে সকল মানুষদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ ছিল। আর এই ১৪০০ জন মানুষকে নজরে রেখে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। তারপরেই নিশ্চিত করা হয় কাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ হয়েছে।

ভিলওয়ারা শহরের প্রশাসকদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদৃষ্টিতা নজর কেড়েছে কেন্দ্র সরকারের। যে কারণে এই শহরের মডেলকে ভারতের করোনা হটস্পট শহরগুলিতে আগামী দিনে কার্যকর করা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই মডেল হটস্পটগুলিতে কার্যকর করা হলে সাফল্যতা মিলবে বলেও আশা করা হচ্ছে।