শিশুকে নিয়ে বাইক চালাচ্ছেন? এর থেকে বেশি স্পিড হলেই লাগবে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদন : একটা সময় ছিল যখন সাধারণ মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে ছিল বাইসাইকেল (Bicycle)। এখন সেই বাইসাইকেলের জায়গা নিয়েছে মোটরসাইকেল (Motorcycle)। এছাড়াও বেড়েছে অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা। আর দিন দিন যতই যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে পথদুর্ঘটনা। এমন সব দুর্ঘটনা ঠেকানোর জন্য নির্দিষ্ট মোটর ভেহিকেল আইন (Motor Vehicle Act) জারি করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। সেই মোটর ভেহিকেল আইন অনুযায়ী, আপনার মোটরবাইকে কোন শিশু থাকলে কত গতিবেগে গাড়ি চালাতে হবে তা জানা উচিত। কেননা তার থেকে বেশি স্পিড উঠলেই দিতে হবে জরিমানা।

প্রথমেই বলে রাখা দরকার, মোটর বাইকে শিশু হোক অথবা অন্য যে কেউ সাওয়ারি করুন না কেন তার হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়ম অনেকেই মেনে চলেন আবার অনেকেই উদাসীনতার সঙ্গে এসবকে মানেন না। এসব নিয়ম না মানার কারণেও জরিমানা গুনতে হয় মোটরবাইক আরোহীদের। এর পাশাপাশি ১৯৮৯ মোটর ভেহিকেল আইনে মোটর বাইকে শিশু সাওয়ারি করলে কত গতিবেগে মোটরবাইক চালাতে হবে তা জানানো হয়েছে।

১৯৮৯ মোটর ভেহিকেল আইন অনুসারে মোটরবাইকের গতিবেগ নির্দিষ্ট উচ্চ সীমার মধ্যে থাকতে হবে যদি শিশুর বয়স নয় মাস থেকে চার বছরের মধ্যে হয়। এছাড়াও চার বছরের নিচে থাকা শিশুদের মোটরবাইকে সাওয়ারি করানো হলে তাদের জন্য সেফটি হার্নেস এবং ক্র্যাশ হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও কেন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে এই সেফটি হার্নেস হতে হবে অল্প ওজনের, ওয়াটারপ্রুফ এবং টেকসই।

বহু পথ চলতি মানুষদেরই দেখা যায়, রাস্তাঘাটে বহু অভিভাবক অথবা ছোট ছোট শিশুদের আত্মীয়রা তাদের মোটর বাইকের পিছনে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ওই সকল শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে তা করা হয় না। এই সকল ক্ষেত্রে রীতিমত ওই শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই এবার এমন শিশু থাকলে মোটরবাইকের গতিবেগ কত থাকতে হবে তাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

১৯৮৯ মোটর ভেহিকেল আইনের ১২৯ ধারায় বলা হয়েছে, ৯ মাস থেকে ৪ বছরের মধ্যে কোন শিশু যদি কারো মোটরবাইকে চড়ে থাকেন তাহলে ওই মোটর বাইকের গতিবেগ কখনোই ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি করা যাবে না। সরকারি নিয়ম অনুসারে এমন নিয়ম না মানলে জরিমানা দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর পাশাপাশি এমন নিয়ম না মেনে চলা মানে আপনার শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।