Tara Maa of Tarapeeth: সুরা থেকে আমিষ! কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠের তারা মায়ের ভোগে কি থাকে না!

Prosun Kanti Das

Published on:

Tara Peeth’s royal enjoyment of Tara Maa will surprise you too: প্রত্যেক মাসের অমাবস্যার নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু ভাদ্র মাসের অমাবস্যার গুরুত্ব আর পাঁচটা অমাবস্যার থেকে একেবারেই আলাদা। জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে, ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এই অমাবস্যার গুরুত্ব অপরিসীম। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে ভাদ্র মাসের এই বিশেষ অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। মার্কেণ্ডেয় পুরাণ মতে, আসলে এই শুভদিনে শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করার পর দেবী পার্বতীর দেহের কোষ থেকে দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব ঘটেছিল। সেই কারণে এই অমাবস্যাকে কৌশিকী অমাবস্যাও বলা হয়ে থাকে। মা তারার (Tara Maa of Tarapeeth) আশীর্বাদ লাভ করার জন্য এই দিনটিকে বহু ব্যক্তি পালন করে থাকেন।

তন্ত্রসাধনার জন্যও দিনটি যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশেষ দিনে বহু সাধকরা তারাপীঠের মহাশ্মশানে ভিড় করেন এবং রাত জেগে তারা তন্ত্র সাধনা করে থাকে। এই তিথি ‘তারা নিশি’ বলেও পরিচিত। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। এই দিনে তারাপীঠের শীলাময়ী দেবীকে বিশেষ রীতিতে পুজো করা হয়। তিথির আগের দিন মা তারাকে (Tara Maa of Tarapeeth) একেবারে ভোর তিনটের সময় থেকে মূল মন্দির থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্রাম মন্দিরে। সেই মুহূর্তে ভক্তদের ভিড় সত্যি চোখে পড়ার মতো। দেবীকে স্নানাভিষেক করায় ভক্ত ও সেবায়তরা। নতুন বেনারসির সাজে মুণ্ডমালা, হস্তমালা ও ফুলের সাজে ধ্যানময়ী মূর্তিকে মঙ্গলারতি করা হয়। তারা মা আরতি নেন রাজবেশে। এরপরই ভক্তরা তারামাকে পুজো দিতে পারেন।

মাকে (Tara Maa of Tarapeeth) এদিন বিশেষভাবে ভোগও নিবেদন করা হয়। মায়ের ভোগ সত্যি চোখে পড়ার মতো। মাকে দেওয়া হয় রাজকীয় ভোগ। দুপুরে দেবী বিশেষ কোনও অন্নভোগ গ্রহণ করেন না। শুধু তারা মা-ই নয়, সেবাইত থেকে ভক্তরাও অন্নগ্রহণ পর্যন্ত করেন না। সারাদিন পুজো দেওয়ার পর সন্ধ্যের সময় বিশ্রাম মন্দির থেকে ফের মূল মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দৃশ্য দেখার জন্যও হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত থাকেন।

মা তারাকে (Tara Maa of Tarapeeth) মূল মন্দিরে নিয়ে আসার পর ভোগের থালি নিবেদন করা হয়। সেই থালিতে থাকে আমিষ খাবার, যেমন – চিড়ে, লুচি, মিষ্টি, পায়েসের সুস্বাদু ভোগ। এছাড়া আরতির পর দেওয়া হয় খিচুরি, বাসন্তী পোলাও, অন্নভোগ, পঞ্চব্যঞ্জন, ছয় রকমের ভাজা, শুক্তো, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস বা বলির মাংস, পোড়া শোল মাছ, পায়েস, চাটনি, মিষ্টি। সঙ্গে থাকে আরেকটি জিনিস ব্র্যান্ডেড মদের বোতল। শোনা যায়, পোড়া শোলা মাছ ছাড়া মুখে রোচে না তারাপীঠের তারা মায়ের। এমন বহু ব্যক্তি আছেন যারা মানত করেন, তাঁরাও এই ভোগের থালি নিবেদন করেন, সঙ্গে ডালিতে অবশ্যই থাকে মদের বোতল। শাক্তমতে এমন রীতি আছে বলে শোনা যায় না, কিন্তু এই মদকেই কারণবারি বলা হয়। এই প্রথা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। পুজো সম্পন্ন হলে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় সেই প্রসাদ। তবে রাতের ভোগ হিসেবে নিরামিষ খাবারই নিবেদন করা হয়।

ভোগ শুধুমাত্র মন্দিরের মা কালীকেই (Tara Maa of Tarapeeth) করা হয় তা নয়, বামাখ্যাপা ও তাঁর প্রিয় কুকুর শিবাকেও ভোগ নিবেদন করার প্রথা রয়েছে। সন্তানকে ভোগ না খাইয়ে মা কখনো সেই ভোগ খেতে পারেন না। কখনো এই নিয়মের অন্যথা হয় না তারাপীঠে। তাই বামদেবের ভোগ সবার আগে দেওয়া হয়। ভোগের তালিকায় আবার থাকে প্রেত ভোগও। মধ্যরাতে একবারই প্রেত ভোগের আয়োজন করা হয়ে থাকে।