MLA MP: একুল ওকুল, গেল দুই কুল! না বিধায়ক, না সাংসদ, এবার ভোটে ‘সব’ হারানো ৪ প্রার্থী

Madhab Das

Published on:

নিজস্ব প্রতিবেদন : ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে একদিকে যেমন গোটা দেশে বিজেপি তথা বিজেপি শরিক দলগুলির আসন কমেছে, ঠিক সেই রকমই বেড়েছে বিরোধীদের আসন। দেশে বিরোধীদের আসন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের আসন সংখ্যাও বেড়েছে। তবে বাংলায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তাদেরই ৩ জন প্রার্থীর একুল ওকুল দুই কুল গেল, তালিকায় আবার রয়েছেন বিজেপির ১ প্রার্থী।

যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা কেউ বিধায়ক পথ থেকে ইস্তাফা দিয়ে ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কেউ আবার সরকারি উচ্চপদস্থ চাকরি থেকে ইস্তাফা দিয়ে ভোটের ময়দানে লড়াই করতে নেমেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবার মানুষ তাদের বর্জন করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক মানুষের রায়ে কার কার ভাগ্যে ভাটা পড়ল।

১) এই তালিকায় রয়েছেন মুকুটমণি অধিকারী। যিনি রানাঘাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটের বিধায়ক হয়েছিলেন। তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েই তিনি আবার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তাফা দেন। এখন তিনি না রইলেন বিধায়ক না হতে পারলেন সাংসদ। তিনি এবার জগন্নাথ সরকারের কাছে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার ৮৯৯ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

২) তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী ২০২১ সালে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিট জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এছাড়াও তাকে বিধানসভার পিএসি চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকিট পেয়ে তিনি বিধায়ক এবং পিএসি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তাফা দিয়েছিলেন। এবার ভোটের ফলাফল বের হতেই দেখা যায় তিনি বিজেপির কার্তিক চন্দ্র পালের কাছে ৬৮ হাজার ১৯৭ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

৩) ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। এবার তৃণমূল তাকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়। লোকসভায় টিকিট পেয়ে তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তাফা দিয়েছিলেন। তবে বিশ্বজিৎ দাস এবার তৃণমূলের ঝড়ের মধ্যেও জয়ের মুখ দেখতে পেলেন না। তিনি বিজেপির শান্তনু ঠাকুরের কাছে ৭৩ হাজার ৬৯৩ ভোটে পরাজিত হলেন।

আরও পড়ুন 👉 LIC Scheme: ৪০ বছরে অবসর নিলেও মাসে মাসে মিলবে বেতন! LIC-র এই স্কিমের কামালে ফুর্তিতে কাটান বাকী জীবন

৪) একুল ওকুল দুই কুল হারানো যে সকল ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাপস রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তাফা দিয়ে বিজেপিতে নাম লেখান। তাকে বিজেপি উত্তর কলকাতার প্রার্থী করে। কিন্তু ভোটে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাকে ৯২ হাজার ৫৬০ ভোটে পরাজিত হতে হল।

এছাড়াও চিকিৎসকের চাকরি থেকে ইস্তাফা দিয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কপাল খুলতে পারলেন না বিজেপির প্রার্থী প্রণত টুডু, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে আরেক প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেবাশীষ ধর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেও শেষমেশ তার প্রার্থী পদ বাতিল হয়েছিল। তিনি বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছিলেন, যেখানে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী দেবতনু ভট্টাচার্যকে হারিয়ে চতুর্থবারের জন্য সাংসদ হয়েছেন শতাব্দী রায়।