নিজস্ব প্রতিবেদন : চুরির (Theft) ঘটনা নতুন কিছু নয়। বাড়ি অথবা দোকান থেকে চুরির ঘটনা হামেশাই হয়ে থাকে। তবে এখন অধিকাংশ জায়গায় CCTV পৌঁছে যাওয়ার কারণে সেই সকল চুরির ঘটনা খুব সহজেই দেখতে পাওয়া যায় এবং চোরকে শনাক্ত করা যায়। তবে এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরকে শনাক্ত করতে গিয়ে এমন এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হবে তা হয়তো কেউ ভেবে উঠতে পারেননি।
পূর্ব মেদিনীপুরের (East Medinipur) তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে থাকা জেলা পরিষদ মার্কেট কমপ্লেক্সে রয়েছে অমল কুমার মাইতি নামে এক ব্যক্তির মশলার দোকান। বুধবার রাতে ওই ব্যক্তি দোকানের ক্যাশ বাক্সে নগদ ১৩ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকালে এসে তার চোখ রীতিমতো কপালে উঠে যায়।
ওই ব্যক্তি যখন দোকানের ক্যাশ বাক্স দেখেন তখন দেখেন ওখানে কোন টাকা নেই। কোথায় গেল টাকা এই নিয়ে হইচই শুরু হয়। আশেপাশের ব্যবসায়ীরা এসব শুনেই ভিড় জমাতে শুরু করেন। অমল বাবুর দোকানে তিন চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে ফোন লাগানোর ঠিক আগে সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়েই রীতিমতো অবাক হয়ে যান প্রত্যেকে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় প্রথম দিকে সেই ভাবে কিছু ধরা পড়েনি। না দেখা মিলেছে চোরের না অন্য কারো। তবে এরপরেই যখন মনোযোগ সহকারে সিসিটিভি ফুটেজ রাখা হয় তখন দেখা যায় এই সমস্ত কান্ড এক ইঁদুর বাবাজির। দেখা যায় ক্যাশ বাক্সে থাকা সামান্য ফাঁক সে আবিষ্কার করেছে আর সেখান থেকেই গোছা গোছা টাকা বয়ে নিয়ে যায়।
সিসিটিভিতে এমন ঘটনা দেখতে পাওয়ার পরে অমলবাবু এবং তার বন্ধু-বান্ধবরা দোকানের মধ্যেই উধাও হওয়া টাকার খোঁজ চালাতে শুরু করেন। শেষমেষ সেই টাকা দোকান থেকেই উদ্ধার হয়। পুরো টাকা উদ্ধার না হলেও ১২৭০০ টাকা উদ্ধার হয়। আবার সেই টাকা একেবারেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। টাকা পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন অমল বাবু, অন্যদিকে অমূল্যবাবু এবং পড়শীরা সিদ্ধিদাতার বাহনের এমন কাণ্ডকারখানা দেখিয়ে হাঁসি ধরে রাখতে পারছেন না।