দামোদর গর্ভ থেকে উদ্ধার বিশ্বযুদ্ধের বিশাল মর্টার শেল, হাজির পুলিশ, চাঞ্চল্য গোটা বাঁকুড়ায়

বাঁকুড়ার দামোদর নদীতে (Damodar) তিনটি মর্টার শেল উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। সোনামুখী থানার রাঙামাটি ফেরিঘাটের কাছে বালি তোলার সময় পে-লোডার দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল। হঠাৎই নদীর গর্ভ থেকে বেরিয়ে এল বিশালাকার তিনটি ধাতব শেল। এর আগে এই অঞ্চলে একটি বা দু’টি মর্টার শেল পাওয়া গেলেও, একসঙ্গে তিনটি উদ্ধার এই প্রথম।

দামোদর গর্ভে মিলল বিশালাকার মর্টার শেল

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, এগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মর্টার শেল। ১৯৩৯-১৯৪৫ সালে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এখানে সেনা প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রাখা হতো। অনেক সময় অব্যবহৃত বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, অজয়ের মতো নদীতে এমন অবিস্ফোরিত শেল প্রায়ই বালি তোলার সময় বেরিয়ে আসে। গত বছরও বোলপুরের অজয় নদীতে এমন একটি শেল সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয় করেছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সোনামুখী থানার পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। বিস্ফোরণের আশঙ্কায় শেলগুলিকে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা এসে শেলগুলি পরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন বস্তু আগে দেখেননি। অনেকে ভিড় করে ছবি তুলছেন। তবে প্রশাসন সতর্ক করেছে কাউকে কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এলাকায় বালি তোলা আপাতত বন্ধ।

প্রসঙ্গত, দামোদর নদীতে মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনা বারবার ঘটলেও, এবারেরটা সবচেয়ে বড়। তাই কি হবে সেটা নিয়ে বেশ চিন্তিত অনেকেই। আপাতত সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাঁকুড়া।