দিন যত এগোচ্ছে ততই ভারত সব ক্ষেত্রে মান উন্নয়ন করে চলেছে। এই মান উন্নয়নের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশের প্রত্যেক মানুষ কতটা স্বাধীন ও সুখী। সাধারণত প্রতি বছরই ২০সে মার্চ দিনটিকে কেন্দ্র করে পালিত হয় আন্তর্জাতিক সুখ দিবস। এই একই দিনে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্স’ প্রকাশিত হয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টারের হাত ধরে।
এবার সারা বিশ্বের মধ্যে সুখী দেশের তালিকায় গত বছরের তুলনায় বেশকয়েক ধাপ এগিয়েছে ভারত। যা সমগ্র দেশের মানুষের সুখকে নিশ্চিত করে। তবে গত বছরের তুলনায় সুখ সূচক এর তালিকায় ভারত এগিয়ে থাকলেও প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ভারতকে টেক্কা দিয়ে চলতি বছরেও এগিয়ে গেল। গত বছর সুখী দেশের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল ১২৪ নম্বরে। তবে চলতি বছর ভারতের স্থান ১১৮ নম্বরে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের স্থান ১০৯ নম্বরে।
আরও পড়ুন: Money Vastu Shastra: ফকির না হয়ে রাজা হতে চাইলে ঘরের এই জায়গায় টাকা রাখুন! কোন জায়গা জেনে নিন
ভারতের আরও দুই প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ রয়েছে যথাক্রমে ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর স্থানে। মনে করা হচ্ছে, মূলত গত বছর থেকে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির কারণেই পিছিয়ে গিয়েছে সেই দেশ। যদিও তালিকায় অনেকটাই এগিয়ে লি কিয়াং এর দেশ চিন। তারা রয়েছে ৬৮ নম্বর স্থানে। হিংসাদীর্ণ ইউক্রেন, মোজাম্বিক, ইরাক, ইরান, প্যালেস্টাইন, কঙ্গো, উগান্ডা সুখ সূচক তালিকায় ভারতের আগে জায়গা দখল করে নিয়েছে।
প্রতিবারের মতো চলতি বছরেও সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। এরপর একে একে রয়েছে ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ড এর নাম। মোট ১৪৭টি দেশের মধ্যে তালিকায় সবার শেষে নাম রয়েছে আফগানিস্তানের। ওই দেশের শোচনীয় তালিবান শাসনে মেয়েদের কঠোর নিয়মকানুনের বেড়াজালে জর্জরিত করে রাখার ফলেই সুখ-সূচকে দেশটির ঠাঁই পেয়েছে বলে অনেকের মন্তব্য। আমেরিকার স্থান ২৪ নম্বরে।
একটা দেশ কতটা সুখী তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। মূলত দেশগুলিতে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সে দেশের নাগরিকরা পরস্পরের সঙ্গে থাকতে অভ্যস্ত কি না, একসঙ্গে নিজেদের খাবার ভাগ করে খায় কি না, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ায় কি না তা এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এই প্রসঙ্গে একটি মজার উদাহরণ বেশ প্রযোজ্য। কোনও দেশে মানিব্যাগ হারিয়ে গেলে সেটি অপরকে ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা কতটা সেই বিষয়ে মতামত জানা হয় নাগরিকদের কাছ থেকে। সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে সে দেশের মানুষ কতটা সুখী ও অন্যের দুঃখে দুঃখী তা বিচার করে দেখা হয়। এমন আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সুখ সূচক প্রকাশিত হয় প্রতিবছর।