এপ্রিলের শুরু থেকেই গরমের জ্বালায় নাজেহাল হচ্ছে মানুষজন। হু হু করে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আর এই গরম থেকে স্বস্তি পেতে আজকাল এসি সকলের কাছেই বিলাসিতার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এসির পাশাপাশি গরমের দিনে আরও একটি যন্ত্র সমান গুরুত্ব পায় তা হল রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। এই তীব্র গরমে খাবার বাইরে রাখলেই তা চটজলদি নষ্ট হয়ে যায়। বাড়িতে ফ্রিজ থাকলে তা অনায়াসে ফ্রিজে রাখা যায়। এছাড়া ঠান্ডা জল বা পানীয় গরমের দিনে শরীর ও মন দুটোকেই আরাম দেয়।
তবে গরমের দিনে এই ফ্রিজ নিয়ে চিন্তার শেষ থাকে না, কারণ বেশ কিছু ভুল করলেই ফ্রিজ খুব সহজে বার্স্ট করে। যার মূল কারণ হল ফ্রিজের কম্প্রেসার গরম হয়ে ফেটে যাওয়া। তাই সঠিক ভাবে মাঝে মধ্যেই ফ্রিজের যত্ন নেওয়া দরকার। কারণ কম্প্রেসার ফেটে গিয়ে সামনে থাকা ব্যক্তির প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকে। মানুষের শরীরে যেমন হৃদপিণ্ড রয়েছে ঠিক তেমনি ফ্রিজেরও হৃদপিণ্ড রয়েছে যা হল ফ্রিজের কম্প্রেসারটি এই কম্প্রেসারটি ফ্রিজকে শীতল রাখে।
আরও পড়ুন: Summer Heat Prediction: এবছর চরম গরমে অতিষ্ঠ হবে জনজীবন! কী বলছে আবহাওয়া অফিস?
তবে কোন ভুল ভ্রান্তি হলে অতিরিক্ত গরমের চাপে কম্প্রেসারটি ফেটে গিয়ে গোটা বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রথমত ফ্রিজে যদি গ্যাস লিক করে ও একইসাথে অতিরিক্ত মাত্রায় কম্প্রেসার গরম হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আগুন লেগে ফেটে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত ফ্রিজটি বাড়ির দেওয়ালের কাছে রাখা হলে, ভালোভাবে বাতাস নিষ্কাশন না করলে ফ্রিজের কম্প্রেসারটি গরম হতে শুরু করে।
তৃতীয়ত ভোল্টেজের ওঠা নামা বা শর্ট সার্কিট থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসারটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকের সামর্থ্য না থাকলে কম দামে পুরনো ফ্রিজ কেনেন। সেক্ষেত্রে পুরনো ফ্রিজের যন্ত্রাংশ বাড়তি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফ্রিজটিকে দেওয়ালের কাছে রাখতেই হলে ফ্রিজের থেকে দেওয়ালের দূরত্ব ৬ ইঞ্চি বজায় রাখুন। কারণ ভালোভাবে বাতাস চলাচল বা নিষ্কাশন করা ভীষণই জরুরি ফ্রিজটির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ফ্রিজ আগের মতো ঠান্ডা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে টেকনিশিয়ানকে দেখিয়ে ফ্রিজের সার্ভিসিং করানো জরুরি। অবশ্যই এই সময় ফ্রিজটিকে বন্ধ রাখবেন। এছাড়া ফ্রিজের বাড়তি যত্ন নিতে এবং ভোল্টেজের ওঠানামা বন্ধ করতে ফ্রিজের জন্য একটি স্টেবিলাইজার কিনতে পারেন। এই সহজ উপায়গুলি মাথায় রাখলে আপনার প্রিয় ফ্রিজ ভালো থাকবে বহুদিন।