এসআইআর চলাকালীন অন্যের বাবা অথবা মা অথবা শশুর শ্বাশুড়িকে নিজের বাবা-মা পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় নাম টিকিয়ে রাখার অভিযোগ বারবার উঠতে দেখা গিয়েছে। আর এবার এমনই অভিযোগ পাওয়া গেল খোদ বীরভূমের বুকে। যে ঘটনাকে নিয়ে এখন তোলপাড় জেলা।
ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গিয়েছে তা হল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে সুকদেব হালদার নামে এক ব্যক্তির। যিনি একসময় খয়রাশোল ব্লকের পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মুক্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে আসেন পারুই থানার অন্তর্গত অবিনাশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইমাদপুরে। তিনি এখন সেখানকারই বাসিন্দা।
শুকদেব হালদার একসময় বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৯৭৫ সাল নাগাদ তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করার কারণে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পান। অন্যদিকে ১০-১৫ বছর আগে মুক্তিনগর গ্রামের বর্তমান বাসিন্দা বিজয় হালদার, আসল পদবি মন্ডল, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি মাত্র কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে আসার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই তার ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাধা। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ফন্দি এঁটে মুক্তি নগর থেকে ইমাদপুরে চলে যাওয়া সুখদেব হালদারকে বাবা দেখিয়ে এসআইআর ফর্ম ফিলাপ করেন। বিজয় হালদার এলাকায় একজন তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত এবং শাসকদলের কর্মী হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গায়ের জোরেই এসব করেছেন বলে অভিযোগ সুকদেব হালদারের। এমনকি পুরো ঘটনা জানার পর শুকদেব হালদার যখন বিজয় হালদারকে তার নাম বাদ দিয়ে আসল বাবার নাম দেওয়ার দাবি তোলেন তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুকদেব হালদার বিডিও অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুনঃ জয়দেব মেলা যাওয়ার পথে খুলে গেল বাসের এমার্জেন্সি গেট! মাটিতে প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশু
অন্যদিকে এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত বিজয় হালদার দাবি করছেন, কে কি বলল তাতে তার কিছু যায় আসে না। তার কাছে সমস্ত নথি রয়েছে বলেই তিনি এসআইআর ফর্ম ফিলাপ করেছেন।
