বৈষ্ণব সাহিত্য চর্চা, সিউড়ির বইমেলায় অপ্রকাশিত বৈষ্ণব সাহিত্যের সংকলন

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্য-সৃজকদের সম্পর্কে নিবিড় অনুসন্ধানের এক অসামান্য পথিকৃৎ বীরভূমের শিবরতন মিত্র। সুবিখ্যাত রতন লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রায় ৮০০০ পুঁথির সংগ্রাহক ও সংরক্ষক শিবরতনের সাহিত্যচর্চার প্রধান ক্ষেত্র ছিল পুথিবদ্ধ সাহিত্যের পুনরুদ্ধার ও প্রচার, পুথির বিবরণ প্রদান, পুথির আলোকে প্রাচীন সাহিত্যসেবীদের সম্পর্কে আলোকপাত ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য। বাংলাদেশের অসংখ্য বাংলা পত্রিকার মধ্যে ছড়িয়ে আছে তাঁর মুল্যবান আলোচনাগুলি। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ-বিদেশের গ্রন্থাগার থেকে শিবরতনের রচনা সংগ্রহ ও প্রকাশ করে চলেছেন সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ও জেলার ভূমিপুত্র ড. পার্থশঙ্খ মজুমদার।

এবারের বীরভূম বই মেলায় তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে শিবরতনের বৈষ্ণব সাহিত্য সম্পর্কিত রচনার এক মূল্যবান সংকলন – বৈষ্ণব সাহিত্যচর্চা। প্রায় ৫৫০ পৃষ্ঠার এই সংকলনে আছে বিভিন্ন বৈষ্ণব পদকর্তা ও সাহিত্য-সেবকদের অপ্রকাশিত প্রায় আড়াইশটি পদ, তিনটি গ্রন্থাবলী ও সন্দর্ভ, উনিশটি কৃষ্ণ-কথা ও ষাটটি বৈষ্ণব রসতত্ত্ব বিষয়ক সাহিত্য, পাঁচজন জনপ্রিয় পদকর্তার ‘বিধি-বাণী’র সংকলন এবং বৈষ্ণব সাহিত্য সম্পর্কিত শিবরতন মিত্রের নয়টি আলোচনা।

আরও পড়ুনঃ রাস্তা অবরোধ করে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ! লাঠিচার্জ করে রাস্তা খালি করল পুলিশ

সংকলনের বেশীরভাগ সাহিত্য “অপ্রকাশিত” হওয়ায় শিবরতন মিত্রের এই রচনাগুলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে মূল্যবান আকর হিসাবে বিবেচিত হবে আশা করা যায়। কলকাতার আশাদীপ প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এই সংকলনের দাম ৭০০ টাকা।