চেনা ছক ভেঙে মন্ত্রোচ্চরণ সংকৃত দিদিমণির, নয়া দৃষ্টান্ত গড়ল বীরভূমের কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাই স্কুল

বীরভূমের নানুর কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাই স্কুলে এবার সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja) নতুন ইতিহাস। অব্রাহ্মণ সংস্কৃত শিক্ষিকা মোনালিসা রায় পুরোহিতের দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করলেন। এই ছক-ভাঙা উদ্যোগ জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার বার্তা দিল। পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে সরস্বতী পুজো প্রায়শই ব্রাহ্মণ পুরোহিতের হাতে হয়, কিন্তু এখানে পরিবর্তন এল।

চেনা ছক ভাঙলো বীরভূম

স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, পুরনো ব্রাহ্মণ শিক্ষকরা অবসর নেওয়ায় নতুন পথ খুঁজলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা অভিনন্দা বৈরাগী জানালেন, পরিচালন সমিতি এবং পুজো কমিটি মিলে অব্রাহ্মণ শিক্ষিকাকে দায়িত্ব দিল। সম্পাদক মনোজ ঘোষ বললেন, “জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই পুজো করতে পারে।” এই ভাবনা প্রথম এল শিক্ষক পার্থপ্রতিম দাসের মাথায়। পশ্চিমবঙ্গে সরস্বতী পুজো বিদ্যা ও জ্ঞানের উৎসব, যা স্কুলে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে। গত কয়েক বছরে কলকাতা ও অন্যান্য জেলায়ও অনুরূপ প্রগতিশীল পদক্ষেপ দেখা গেছে, যেমন নদীয়ার এক স্কুলে মহিলা পুরোহিতের উদাহরণ।

পুজোর মন্ত্রপাঠ অব্রাহ্মণ দিদিমণির

৩৮ বছরের মোনালিসা রায় সংস্কৃতের দিদিমণি। পাটভাঙা শাড়িতে স্কুলে এসে পুজোয় বসলেন। মন্ত্র শিখলেন, পদ্ধতি রপ্ত করলেন। তিনি বললেন, “বাড়িতে দুর্গাপুজো-সরস্বতী পুজো হয়, তাই অভিজ্ঞতা আছে। সহকর্মী অরুণ রায় উৎসাহ দিলেন।” তাঁর তিন বছরের ছেলে ঋদ্ধিশেরও হাতেখড়ি হল এখানে। পরিবার গর্বিত। বাবা উজ্জ্বলকুমার রায় ও মা চন্দ্রা রায় বললেন, “মেয়ের এই দায়িত্বে আমরা খুশি।”

শিক্ষক অরুণ রায় যোগ করলেন, “বৈদিক যুগে নারী-পুরুষ, ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ সবাই পুজো করত।” ছাত্ররা উচ্ছ্বসিত। একাদশের দিব্য রায়, দশমের দেবাঞ্জন ঘোষ বললেন, “দিদিমণির পুজোয় অঞ্জলি দিয়ে ভালো লাগল।”

এই অব্রাহ্মণ শিক্ষিকার সরস্বতী পুজো পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে নতুন দৃষ্টান্ত। কলকাতা-বীরভূমের মানুষের মনে সমতার বার্তা ছড়াল। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলায় সরস্বতী পুজো ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে শিক্ষা উৎসব হিসেবে জনপ্রিয়। এমন উদ্যোগ সমাজকে এগিয়ে নেবে। শীতের সকালে এই ঘটনা আলো ছড়াল।