লোকাল ট্রেন যেমন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, তেমনি ফেরি সারফেস। আর এবার হাওড়া-কলকাতা ফেরি টার্মিনাল (Howrah Ferry Service) সত্যিই বিশ্বমানের হতে চলেছে। রাজ্য সরকারের বড় উদ্যোগে হুগলি নদীর দুই পাড়ের ফেরি পরিষেবা পুরোপুরি বদলে যাবে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যে ফেরিতে যাতায়াত করেন, তাদের ভ্রমণ এবার অনেক আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে।
বর্তমানে বাগবাজার, শোভাবাজার, আহিরীটোলা, চাঁদপাল, গোলাবাড়ি, আর্মেনিয়ান ও ফেয়ারলি ঘাটসহ একাধিক জনপ্রিয় ফেরি ঘাটে যাত্রীরা নানা অসুবিধায় পড়েন। অফিস টাইম ও উৎসবে ভিড় বাড়লে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এবার সেই ছবি পাল্টাতে চলেছে।
নতুন হাওড়া ফেরি টার্মিনালে খরচ ৮৯ কোটি
শুধু হাওড়া ফেরি টার্মিনালের আধুনিকীকরণেই খরচ হবে ৮৯ কোটি টাকা। এখানে তৈরি হবে দোতলা আধুনিক ভবন। যাত্রীরা পাবেন এসি ওয়েটিং রুম, ফ্রি ওয়াইফাই, LED ডিসপ্লে বোর্ডে রিয়েল টাইম ফেরি সময়সূচি। তিনটি নতুন পন্টুন বসানো হবে যাতে ওঠানামা সহজ হয়।
যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা?
- সোলার প্যানেলে সবুজ বিদ্যুৎ
- আইপি ভিত্তিক সিসিটিভি সার্ভিল্যান্স
- অটোমেটেড টিকিট গেট
- ২৪ ঘণ্টা জল সরবরাহ
- অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা
- মাটির ক্ষয় রোধের ব্যবস্থা
- ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম
ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রসঙ্গে পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, “হাওড়া-সহ হুগলি নদীর ফেরি ঘাটগুলোকে আধুনিক করা হচ্ছে। যাত্রীরা এবার নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবেন। সড়কপথের চাপও কমবে।”
এই ফেরি টার্মিনাল আধুনিকীকরণের ফলে কলকাতা-হাওড়ার যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও পরিবেশবান্ধব হবে। দৈনন্দিন যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, জলপথের গুরুত্ব বাড়বে। সাধারণ মানুষের এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে শীঘ্রই।
