তৃণমূল করা মানে বড় বড় অট্টালিকায় বাস, নামিদামি গাড়িতে চড়া। এখন এটাই জানেন আমাদের রাজ্যের মানুষেরা। তবে তৃণমূলে কিন্তু এমনও নেতাও রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে দলকে ভালোবেসে দল করলেও নিজের জন্য কিছু করতে পারেননি। এমনই এক তৃণমূল নেতার ঠিকুজি-কুষ্ঠি নিয়ে হাজির আমরা।
এমন একজন তৃণমূল নেতা যার কথা বলা হচ্ছে তিনি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর দু’নম্বর ব্লক এর উলকুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণ প্রসাদ চন্দ্র। এলাকায় সবাই তাকে আশীষ চন্দ্র নামেই চেনেন। তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকেই তিনি তৃণমূলে রয়েছেন এবং ২৬ বছর ধরে ব্লক সভাপতি ছিলেন। কিন্তু তার বাড়ি দেখলে রীতিমতো অবাক লাগবে। জমিদার পরিবারের এই মানুষটির বাড়ি সেই পুরনো আমলের বাড়ি। বাড়িটি সংস্কারও সেই ভাবে করা হয়নি। তার বাড়ির এমন অবস্থার কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, তার বাবা তাকে সবসময় সৎ ভাবে চলার কথা বলেছিলেন এবং বাবার সেই কথা মেনেই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
নারায়ণ প্রসাদ চন্দ্র ১৯৮০ সাল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই সময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস করতেন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করলে সদলবলে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। এখানকার পঞ্চায়েত সেই সময়ই ছিল কংগ্রেসের, তিনি সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়েই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং তারপর থেকেই তৃণমূলে বড় প্রাধান্য পেয়েছিলেন।
নারায়ণপ্রসাদ চন্দ্র শুধু তৃণমূলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী বা নেতা তা নন, পাশাপাশি তিনি পাঁচ বার পঞ্চায়েত সদস্য ও দুবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসাবে মোট সাতবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন।
তবে এমন একজন নেতা 26 বছর ধরে এলাকার ব্লক সভাপতি থাকার পর ২০২৩ সালের শেষের দিকে তার ব্লক সভাপতির পদে ইতি পড়ে। তিনি দাবি করেছেন, তাকে চক্রান্ত করেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও বর্তমানে নতুন করে তিনি প্রাধান্য পাচ্ছেন দলে।
এলাকার মানুষদের থেকে জানা যায়, তিনি কেবলমাত্র তৃণমূলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী তা নন, পাশাপাশি ওই এলাকায় একসময় তৃণমূল বলতে তাকেই মানুষ চিনতেন। হাতেগোনা চার পাঁচ জনকে নিয়েই তিনি দল করেছেন। নির্ভয়ে দল করার পাশাপাশি পরবর্তীতে দলকে বড় জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার।
