মুকুল রায়ের (Mukul Roy) মৃত্যু বাংলার রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন এই বর্ষীয়ান নেতা। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হৃদরোগ এবং ডিমেনশিয়ার মতো রোগে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় ৬০০ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানলেন মুকুল রায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।
প্রয়াত মুকুল রায়
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কংগ্রেসে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন তিনি। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যাঁকে ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ বলা হতো। রাজ্যসভার সাংসদ, জাহাজ মন্ত্রী এবং পরে রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, জাতীয় সহ-সভাপতি হন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হন। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাস পরই আবার তৃণমূলে ফেরেন। বিধায়ক পদ নিয়ে বিতর্ক উঠলে হাইকোর্ট তা বাতিল করে, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। মৃত্যুর সময় তিনি তৃণমূলের সদস্য ছিলেন, যদিও স্বাস্থ্যগত কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ ছিলেন হাসপাতালেই
দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে মুকুল রায় কয়েক মাস ধরে কোমায় ছিলেন। সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টায় মারা যান। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী কৃষ্ণা রায় এবং ছেলে শুভ্রাংশু রায়। ছেলে জানান, ‘বাবা অনেক লড়াই করেছেন, কিন্তু শেষ যুদ্ধ জিততে পারেননি।’ মৃতদেহ বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য, তারপর কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে। শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেবে পরিবার এবং দলীয় নেতৃত্ব।
শোকাহত রাজনৈতিক জগত
মুকুল রায়ের প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্ত।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুকুলের মৃত্যুতে সমর্থকরা তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় করেছেন। বিজেপি নেতারাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এই মৃত্যু বাংলার রাজনীতিতে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে, যা সহজে পূরণ হবে না।
