বীরভূমের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Suri Super Specialty Hospital Birbhum) মৃতদেহ উধাও হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে ভর্তি হওয়ার মাত্র দশ মিনিট পরই এক যুবকের মৃত্যু। তারপর পরিবারের লোকেরা ডেড সার্টিফিকেট ছাড়াই দেহ নিয়ে চম্পট। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে ব্যাপক প্রশ্ন। এমন সিউড়ি হাসপাতালে রোগীর দেহ অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়েছে।
সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে উধাও মৃতদেহ
সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ। পাণ্ডবেশ্বরের ২১ বছরের অজয় সিং নামে এক যুবককে তার আত্মীয়রা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাক্তার অঞ্জন ভাদ্রের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ভর্তির মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই অজয়ের মৃত্যু হয়ে যায়। হাসপাতালের রেকর্ডে তার বাবার নাম ভোলা সিং হিসেবে উল্লেখ আছে।
মৃত্যুর পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি লিফট দিয়ে দেহটি নিয়ে বেরিয়ে যায়। হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ডরা এতে কোনো বাধা দেয়নি। এতে হাসপাতালে শোরগোল পড়ে যায়। কর্মীরা পুলিশকে খবর দেয়। স্থানীয় থানায় এফআইআর করা হয়েছে নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে।
হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া
হাসপাতালের অ্যাক্টিং সুপারিনটেন্ডেন্ট সুব্রত গড়াই বলেছেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যেকোনো ত্রুটি শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিকিউরিটি সিস্টেমের ফাঁকফোকর তদন্ত করছে। এর আগেও বীরভূমের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিককালে কোভিডের পর এই ধরনের ঘটনা রোগী-পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
পুলিশের তৎপরতায় বিকেল নাগাদ মৃতদেহটি উদ্ধার হয়। আত্মীয়রা স্বীকার করেছে, তারা কাগজপত্রের ঝামেলা এড়াতে দেহ নিয়ে গিয়েছিল। এখন দেহ হাসপাতালে ফিরে এসেছে। তদন্ত চলছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই ঘটনা বীরভূমের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভগ্নদশা ও নিরাপত্তাহীনতা তুলে ধরেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, হাসপাতালগুলোতে সিসিটিভি ও আরও গার্ড নিয়োগ করা হোক। সাধারণ মানুষের জন্য এমন ঘটনা সত্যিই ভয়ের। সরকারকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আর কোনো পরিবার এমন যন্ত্রণায় না পড়ে।
