প্রকৃতি যেমন তার অপরূপ সৌন্দর্যে গোটা পৃথিবীকে ভরিয়ে রেখেছে ঠিক তেমনই প্রকৃতির ভয়ানক রূপের কাছে হার মানতে হয় সকলকেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে কয়ে আসেনা, আর যখন আসে তখন তছনছ করে দেয় গোটা ধরিত্রীকে। ইতিমধ্যেই একের পর এক দেশের বুকে ঘটে চলা বিধ্বংসী ভূমিকম্প চোখ রাঙ্গাচ্ছে বিশ্ববাসীকে সম্প্রতি, মায়ানমারের বুকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প এর জেরে কেঁপে ওঠে সেই দেশ। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৭।
শুধু তাতেই থেমে থাকেনি, ওই জোরালো ভূমিকম্পের পর একাধিক বার আফটার শকে নড়ে ওঠে সেই দেশ। ভূমিকম্পকে তীব্রতা অনুসারে মোট চারভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। মায়ানমারের ক্ষেত্রে সেই কম্পন ছিল তীব্র কম্পন। যার জেরে শহর কলকাতাও প্রভাবিত হয়েছিল।এখন যেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে তা হল কলকাতার বুকে ভূমিকম্প হওয়ার প্রবণতা কতটা? ইট কাঠ পাথরের জঞ্জালে আদেও কী স্বস্তি রয়েছে শহরবাসীর? আচমকাই কী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে পারে শহর কলকাতা? ভূ-বিজ্ঞানীরা এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
এস আই এর ডেপুটি ডিরেক্টর শৈবাল ঘোষের তরফে জানা গিয়েছে, কলকাতা শহরের উত্তরের দিকে উত্তরবঙ্গে হিমালয় পর্বতাঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার বেশ ভালো প্রবণতা রয়েছে। যার জেরে নড়ে উঠতে পারে গোটা শহর কলকাতা। পূর্বে একাধিক সময়ে শহর কলকাতা প্রভাবিত হয়েছে উত্তরবঙ্গ, নেপাল, সিকিম, ইত্যাদি জায়গার ভূমিকম্পের কারণে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে কলকাতা শহরও কিন্ত কম্পনের সম্ভাবনা থেকে দূরে নেই।
কলকাতায় ৭.৭ বা ৮ ভয়ানক মাত্রার ভূমিকম্প না হলেও অন্য যে স্থানে হবে, তাতে প্রভাবিত হবে কলকাতায়। ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০১৫ সালে আইআইটি খড়গপুর একটি সমীক্ষা করে এটা জানার জন্য যে কোথায় কেমন ক্ষতি হবে। সেই সমীক্ষা বলছে, শহর কলকাতা ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। সাইসমিক জোন ম্যাপে ৪ টি ভাগ রয়েছে। ২,৩,৪,৫। সব থেকে কম ঝুঁকির মুখে রয়েছে আছে জোন ২। সবথেকে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে জোন ৫। অন্যদিকে শহর কলকাতা রয়েছে একবারে ৩ ও ৪ এর বর্ডার লাইনে। তাই ভূমিকম্পের আশঙ্কাকে মোটেই অবহেলা করা যায় না।
বলা বাহুল্য, কলকাতার বুকে তরতর করে বেড়ে উঠছে সুবিশাল বহুতল। সব বাড়ি ভূমিকম্পের প্রভাবে যে ভেঙে পড়বে তা নয়। তা দাঁড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর। তাই ভূমিকম্প থেকে বহুতল রক্ষা করতে হলে তা তৈরির সময় নির্দিষ্ট নিয়ম আর্কিটেক্টদের মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মের তোয়াক্কা না করলে যে সব জায়গায় বহুতল গড়ে উঠছে জলা জমি ভরাট করে অথবা বড় রাস্তার সঙ্গে বাড়ির দূরত্ব কম সে সব জায়গায় ভূমিকম্পের প্রভাবে ভয়াবহ ক্ষয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।