পশ্চিমবঙ্গের বাজেটে অতিরিক্ত খরচ এবার চোখে পড়ার মতো। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এ রাজ্য সরকার (Govt. of West Bengal) অতিরিক্ত ১৭,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় মূলত সামাজিক নিরাপত্তা, রাস্তা উন্নয়ন এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গেছে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই খরচ বাড়ানো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আকস্মিক প্রয়োজনে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্যের মোট বাজেটের ৪.৬১ শতাংশ এই অতিরিক্ত ব্যয়।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের অতিরিক্ত খরচ ১৭০০০ কোটি
রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পিছনে রয়েছে জরুরি প্রকল্পগুলো। লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো সামাজিক অনুদান বাড়ানো হয়েছে। পুজো অনুদান, রাস্তা মেরামত এবং জলজীবন মিশনের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় রাজ্যের মোট ব্যয় ৩.৪৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০২৬-২৭-এর অন্তর্বর্তী বাজেটে ৩.৯৬ লক্ষ কোটিতে উন্নীত হবে। কেন্দ্রীয় অনুদানও বাড়বে ৪৭,৬১৫ কোটি টাকায়। এই অতিরিক্ত খরচ রাজ্যের ঋণ বাড়িয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী বছরে জনকল্যাণ প্রকল্পে ফোকাস করে সরকার ভোটারদের আকর্ষণ করতে চাইছে।
কোথায় খরচ কত?
পশ্চিমবঙ্গের বাজেটে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিভাজন স্পষ্ট। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৫১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ। পথশ্রী প্রকল্পে ৪,৩৭৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে রাস্তা উন্নয়নে। পুজো অনুদানে ৫০০ কোটি, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে ১,১৪০ কোটি টাকা। জলজীবন মিশনের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে ৭৯৪ কোটি এবং পেনশন সুবিধায় ১৫৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়। এছাড়া, অন্যান্য খাতে ছড়িয়ে রয়েছে বাকি টাকা। এই বরাদ্দগুলো গ্রামীণ অবকাঠামো এবং মহিলা কল্যাণে জোর দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অতিরিক্ত খরচ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারে মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বাড়ানো, এসব ঘোষণা ভোটারদের প্রভাবিত করবে। তবে, বিজেপি এটাকে ‘ভুয়ো দলিল’ বলে কটাক্ষ করেছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তাছাড়া আগামী দু’মাসে হিসাব আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
